রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১২:২৯ পিএম
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় জুমার নামাজের আগে বয়ান চলাকালে এক মসজিদের ইমামকে গালাগালি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুলের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ইমাম শনিবার (২৩ মে) বিকেলে মৌখিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে তার অভিযোগ জানান।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের বাইতুল আকসা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে মহাদেবপুর গ্রামের বাইতুল আকসা জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ান চলাকালে সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে ঢোকেন। এ সময় তিনি মসজিদের ইমামকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ২২ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুল কয়েকজন রাজমিস্ত্রি ও ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে মসজিদের দক্ষিণ পাশের ছাদের কার্নিশ ভেঙে ফেলেন। এছাড়া মসজিদের ওযুখানার নির্মাণকাজেও বাধা দেওয়া হয়।
মসজিদ কমিটির দাবি, কমিটির কাউকে না জানিয়েই এসব কাজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, সরকারি জমি ও মসজিদের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন সুজাউদ্দিন বুলবুল। তিনি একটি পকেট কমিটি ঘোষণা করে ইমামকে চাকরিচ্যুত করারও চেষ্টা চালান। শুক্রবার জুমার বয়ানের সময় ইমামের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটান।
মারধরের শিকার মসজিদের ইমাম মুফতি খন্দকার আজহারুল ইসলাম বলেন, অ্যাডভোকেট সুজাউদ্দিন বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ব্যক্তিগত মার্কেট নির্মাণের জন্য তিনি মসজিদের কার্নিশ ভেঙে ফেলেছেন। এ উদ্দেশ্যে একটি পকেট কমিটি গঠন করে মসজিদের সভাপতিসহ আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, জুমার নামাজের বয়ানের সময় তিনি কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আমাকে বয়ান করতে নিষেধ করেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বয়ান বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। পরে চর-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। আল্লাহর ঘর মসজিদও তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। আমি প্রশাসন ও সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুল বলেন, আমি বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক। মসজিদের ইমামকে চাকরিতে না রাখার বিষয়ে এক মাস আগেই মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এরপরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন। বয়ানের সময় আমি কথা বলতে চাইলে তিনি মাইকের মাউথপিস দেননি। এ নিয়ে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধর বা হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ওই মসজিদের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শুক্রবার সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, মারামারির নয়। এটা কোনো ধর্তব্য অপরাধ নয়, এটা অধর্তব্য বিষয়। এটা নিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
আরটিভি/এমএইচজে