মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ০২:১৭ পিএম
বন্ধুদের সাথে নিজের জন্মদিন পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (৮ জুন) রাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরশহরের মাজার রোড মোড় এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রবিন স্থানীয় সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পেশায় রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে স্থানীয় ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সাথে নিজের জন্মদিন উদযাপনের জন্য কেক কাটে রবিন। অনুষ্ঠান শেষে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাজার রোড মোড়ে পৌঁছানো মাত্রই পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা ৬/৭ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তাদের চলন্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা নাহিয়ান ও তার বন্ধুর চোখে-মুখে লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাহিয়ানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এ সময় মাসুম কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও রক্ষা পাননি রবিন। সন্ত্রাসীরা তাকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে মৃত ভেবে চলে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাসুম বলেন, আমরা কেক কেটে আনন্দ মনে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলাম। মাজার রোড মোড়ে আসতেই হঠাৎ ৬-৭ জন মুখ বাঁধা অস্ত্রধারী আমাদের সামনে দাঁড়ায়। চোখের পলকে ওরা আমাদের চোখে মরিচের গুঁড়ো মেরে দেয়। আমরা কিচ্ছু দেখতে পারছিলাম না। ওই অবস্থাতেই ওরা হামলা চালায়। আমি কোনোভাবে দৌড়ে বাঁচলেও ওরা রবিনকে শেষ করে দিল।
রবিনের এই অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা মোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই ছেলেকে নিয়েই আমার বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন ছিল। আজ সন্ত্রাসীরা আমার সেই বুক খালি করে দিল, আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি।
আরটিভি/টিআর