images

দেশজুড়ে

ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৬

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ০৬:১৩ পিএম

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি এবং মা ও তার স্কুলছাত্রী মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৩টার দিকে উপজেলার সিকদারপাড়া ডলুনিঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩), কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল গভীর রাতে বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের মূল দরজা খুলে অন্য সদস্যদের ঢুকতে সহায়তা করে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তার মেয়েকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

এবার বাগেরহাটে ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশু

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাগনির শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি করে এবং ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর মধ্যে চারজনকে ভুক্তভোগীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

আরটিভি/এমএইচজে