images

প্রবাস

ভারতে মৃত্যুর আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী 

রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ০৯:৩৮ পিএম

ভারতের দিল্লিতে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে মোস্তফা আহমেদ সাগর (২৫) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

রোববার (২৪ মে) নিহত সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শনিবার (২৩ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাগর। এরপরই দিল্লির ফরিদাবাদ এলাকায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পরিবার থেকে জানা যায়।

নিহত সাগর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে। তিনি ভারতের মানব রচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে সাগর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, ‘মা-বাবা আমায় মাফ করিও। নিজেকে অনেক বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করলাম, অবশেষে আজ আমি ক্লান্ত এবং চলে যাচ্ছি খোদার কাছে। ঘরে ফিরে হয়তো বিজয় উদযাপন করতে পারলাম না, দুর্ভাগা আমি। দেশের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানি না। আমি শুধু আপনাদের কাছে দোয়া চেয়ে গেলাম। ভুল করে থাকলে মাফ করবেন। জীবনে একটা চাওয়া খোদার কাছে প্রতিটা সময়ই চেয়েছি, পেয়েও পায়নি। রাখার চেষ্টা করেও রাখতে পারিনি। আমি এতটাই হতভাগা হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষটি, তার হাতে হয়তো হাত রেখে বেঁচে থাকার স্বপ্নটা পূরণ হলো না। কতো করে বুঝিয়েছি হলোই না। তাকে কথা দিয়েছিলাম হয় তুমি, নয় মৃত্যু। তাকে কথা দেওয়াটা পূরণ করে তাকে মুক্তি দিলাম। তাকে কেউ দোষারোপ করবেন না, তাকে বাঁচতে দিয়েন আমার জন্য হলেও।’

সবশেষে সাগর পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘আমাকে যেন ময়নাতদন্ত না করা হয়। কারণ, সে কষ্ট পাবে। আমাকে পারলে ঝামেলাহীন দাফন করে দিয়েন। কবরের দেয়ালে লিখে দিয়েন হতভাগা। ভালো থেকে তুমি, তোমায় দেওয়া কথা পূরণ করলাম। কান্না করবে না বুসছো। তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না। তুমি আমার জন্য দোয়া করো। বিদায় প্রিয় মানুষ, বন্ধু, বাবা-মা।’

আরও পড়ুন
67y

দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশি যুবক, অতঃপর...

 

সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বলেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটি আমি জানি না। আমি সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’

এদিকে সাগরের মা জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে ফোন করে পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা জিজ্ঞেস করি। তখন সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। এরপর কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো, সেটার সত্য জানতে চাই।’

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। পরিবারের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। প্রথমে পরিবারের অ্যাম্বাসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিবার যদি না পারে তাহলে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

আরটিভি/এসকেডি