নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে হত্যার চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি এবি সিদ্দিক দীপুকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত তাকে হাজির করা হলে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক দীপুকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজিমুল হক জানান, দুপুরে রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে দীপুকে। লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে দীপুই বেশি আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবি সিদ্দিক দীপু ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফানের বডি গার্ড বলে জানা গেছে।
এর আগে গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে দুপুরে লালবাগে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বাস ভবনে দিনভর অভিযান চালায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বিকেলে ইরফান ও তার বডি গার্ড মো. জাহিদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাদের দুইজনকে এক বছর করে জেল দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আরও পড়ুন:
ইরফানের মামলা যাচ্ছে ডিবিতে, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি
ইরফানের বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন আজই: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্রের নিন্দা জানালো সৌদি
রোববার রাতে ঢাকার ধানমন্ডিতে গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফের উপর হামলা চালানো হয়। পরে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মামলা দায়ের করেন। দীপু মামলার দুই নম্বর আসামি বলে আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের ডিসি আজিমুল হক।
ওয়াসিফ আহমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’−এই কথা বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
কেএফ/এম