logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু ১৫ জন, আক্রান্ত ২০২৯ জন সুস্থ ৫০০ জন, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৩১০টি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঘূর্ণিঝড় আম্পান: ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত, ৩৪টি গ্রাম প্লাবিত  

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী
|  ২১ মে ২০২০, ২১:৫৪ | আপডেট : ২৩ মে ২০২০, ১২:২৮
Cyclone Amphan embankment destroyed, 34 villages flooded
বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া একটি চিংড়ির ঘের

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে পটুয়াখালী উপকূলে বিপদ সীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার (প্রায় ৬ ফিট) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর কমপক্ষে ৩৪টি গ্রাম।

বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো হলো জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া, চর আন্ডাসহ পাঁচটি গ্রাম, দুমকি উপজেলার উত্তর পাঙ্গাশিয়া, দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া, রাজগঞ্জ ও লেবুখালীসহ পাঁচটি গ্রাম, দশমিনা উপজেলার রংগোপালদীর বুড়ির কান্দাসহ দু’টি গ্রাম, গলাচিপা উপজেলার চর কাজল, চর বিশ্বাস, গোলখালী, রতনদী তালতলী, ডাকুয়া, পানপট্টি ও বকুলবাড়িয়াসহ ১০টি গ্রাম। 

এছাড়াও কলাপাড়া উপজেলার চৌধুরীপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নং, মুন্সীপাড়া, হাসনাপাড়া, মঞ্জুপাড়া, চান্দুপাড়া, কালাউপাড়া, ধনজুপাড়া, বানাতিপাড়া, চাড়িপাড়াসহ ১২টি গ্রাম। এতে উপকূল অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় নির্ঘুম একটি রাত কাটালো পটুয়াখালীর উপকূলবাসি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে পটুয়াখালীতে দুইজন মারা গেছেন। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বাবা-মা’র সঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার সময় গাছের ঢাল পড়ে জেলার গলাচিপার পানপট্টিতে রাশেদ নামে ৫ বছরের এক শিশু মারা গেছে। রাশেদ পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের শাহজাদা মিয়ার ছেলে। 

ওইদিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক বার্তা প্রচার করতে গিয়ে কলাপাড়ার লোন্দা খালে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ হয় সিপিপি’র ধানখালীর ইউনিয়নের ৬নং ইউনিটের দলনেতা (টিম লিডার) সৈয়দ শাহ আলম (৫৪)। পরে ৯ ঘণ্টা পর ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ডুবুরীরা। 

সৈয়দ শাহ আলমের বাড়ি ওই ধানখালী ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। সে প্রায় তিন দশক ধরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সঙ্গে জড়িত ছিলো।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বেশকিছু কাচা ঘর বাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি হলেও এ জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য চাষিদের। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে জেলায় অন্তত দুই শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বানের পানিতে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে মৎস্য চাষিরা।  

মৎস্য চাষি মো. লুৎফর রহমান বাবুল বলেন, ‘জেলায় পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের রয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলাই রয়েছে অন্তত ৪৫০টি ঘের। রাঙ্গাবালীর চর কাশেমে আমার দু’টিসহ ৭টি ঘের রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সবগুলো ঘেরই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসে। 

ভেসে যায় ঘেরের সব মাছ। সবার ঘেরেই মাছ ছিল। আর ক’দিন পর অর্থাৎ আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে মাছ ধরার সময় ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়েছে। আমার কম ক্ষতি হয়েছে। দু’টি ঘের মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। কিন্তু অন্যান্য মৎস্য চাষিদের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাদের ঘেরই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। জেলার সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে।

রাঙ্গাবালীর উপজেলার চালিতাবুনিয়ার বাসিন্দা কৃষক মো. কবির হোসেন বলেন, ‘রাতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ৭/৮ ফুট পানি উঠেছে। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের পানি প্রবলবেগে লোকালয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এতে ভয়ে আমরা পরিবারের লোকজন গিয়ে স্কুলের ভবনে আশ্রয় নেই এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি সবাই।’

একই এলাকার মাকসুদা বেগম বলেন, ‘সবখানেই গরীবের মরণ। এমনিতেই করোনায় সব কাজ-কর্ম বন্ধ করে দিছে। তার ওপর আবার এই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ক্ষেতে যেসব ডাল ও সবজি ছিলো তাও শেষ। ঘরেও কিছু ক্ষতি হয়েছে। এতে কি দিয়া ঘর ঠিক করমু, আর কি দিয়া খামু তার চিন্তা করে কোন কুলকিনারা পাচ্ছি না।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে এ জেলায় তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাছের ঢাল পড়ে গলাচিপায় ৫ বছরের এক শিশু এবং কলাপাড়ায় নৌকা ডুবিতে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) এক ইউনিট টিম লিডার মারা গেছেন। 

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে পূর্বের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢুকে বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যায়। এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে তা দ্রুত জেলা প্রশাসক কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য জনা যাবে। তারপর পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এজে

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪০৩২১ ৮৪২৫ ৫৫৯
বিশ্ব ৫৭৮৮৯২৮ ২৪৯৭৯৫৩ ৩৫৭৪২৬
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়