images

শিল্প-সাহিত্য

আজও অমর কবি বন্দে আলী মিয়া, রেখে গেছেন অমূল্য সাহিত্যভাণ্ডার

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৩:২৯ পিএম

‘আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর, থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর’— এই কয়েকটি চরণ আজও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এই কালজয়ী কবিতা ‘আমাদের গ্রাম’-এর স্রষ্টা কবি বন্দে আলী মিয়া। শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর এবং ছোটদের প্রিয় ‘গল্পদাদু’।

আজ ২৭ জুন তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৯ সালের এই দিনে রাজশাহীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তবে তাঁর সৃষ্টি আজও সমানভাবে বেঁচে আছে পাঠকের হৃদয়ে।

১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বন্দে আলী মিয়া। রাধানগর মজুমদার একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক পাস করে তিনি ভর্তি হন কলকাতার আর্ট একাডেমিতে। সেখান থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবনেই সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং একটি পত্রিকায় কাজ করেন।

পরে কলকাতা করপোরেশন স্কুলে প্রায় ২০ বছর সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশভাগের পর তিনি প্রথমে ঢাকা বেতার এবং পরে রাজশাহী বেতারে কাজ করেন।

আরও পড়ুন
bght-rd

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শিশুসাহিত্যে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। ছোটদের জন্য তিনি লিখেছেন ১০৫টি বই। পাশাপাশি কবিতা, উপন্যাস, নাটক, পালাগান এবং নাটিকাও রচনা করেছেন। তাঁর লেখা গ্রামোফোন রেকর্ডও একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

বেতারে কাজ করার সময় তিনি ‘সবুজ মেলা’ ও ‘ছেলে ঘুমাল’ নামে শিশুদের দুটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। এসব অনুষ্ঠানের জন্য নিয়মিত নতুন গল্প লিখতে লিখতেই তিনি শিশুদের কাছে ‘গল্পদাদু’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এছাড়া ‘কিশোর পরাগ’ ও ‘জ্ঞানবার্তা’ নামে দুটি শিশু পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘ময়নামতির চর’ পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রশংসাসূচক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘বাংলা সাহিত্যে তুমি আপন বিশেষ স্থানটি অধিকার করতে পেরেছ বলে আমি মনে করি।’

এত সৃষ্টিশীল জীবন কাটিয়েও বন্দে আলী মিয়া জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে। তবে কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে সাহিত্যচর্চা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। আমৃত্যু লিখে গেছেন তিনি।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলা সাহিত্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই মানুষটিকে, যিনি তাঁর অমর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।


আরটিভি/জেএমএ