images

শিল্প-সাহিত্য / রাজধানী

চলে গেলেন কবি ও সাহিত্যিক দেওয়ান শামসুল হক

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৪০ পিএম

বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সংগঠক দেওয়ান শামসুল হক আর নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন আরটিভির অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রাকিবের বাবা।

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের বায়তুল আমান জামে মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাদ আসর ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মাঝিরকান্দা কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কবি দেওয়ান শামসুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে। তিনি কলাকোপা কোকিল প্যারী হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ফেনী কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরে জগন্নাথ কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডের হেগস্থিত ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল স্টাডিজ থেকে 'স্টেট এন্টারপ্রাইজ ইন ইকোনমিক ডেভেলাপমেন্টে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউনটেন্টস অব বাংলাদেশ থেকে সি.এ. ইন্টারমেডিয়েট করেন। 

কর্মজীবনে তিনি সাবেক পাকিস্তান সরকারের ডিপুটি কমন্ট্রোলার (পি. টি. এন্ড টি) ঢাকা অফিসে অডিটর পদে যোগদান করেন । পরে টি. সি. পি'র ঢাকাস্থ আঞ্চলিক অফিসে একাউন্টস এক্সিকিউটিভ পদে যোগদান দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর টি. সি. বি'র প্রধান কার্যালয়ে (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন) অর্থ ও হিসাব বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ও শেষে চীফ অডিটরের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ইস্তফা দেন এবং বহুজাতিক কোম্পানী ফিলিপস বাংলাদেশ লিমিটেডে একাউন্টস কন্ট্রোলার পদে যোগদান। পরে ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস লিমিটেড-এর হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর একনাবিন এন্ড কোং চাটার্ড একাউন্টেন্ট ফার্মে তিন বছর চাকরি করেন।

আরও পড়ুন
dead-Picsart-AiImageEnhancer

আরটিভির অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রাকিবের বাবা মারা গেছেন

ছাত্রজীবন থেকেই দেওয়ান শামসুল হক সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। ১৯৫৮ সালে ‘মাসিক দিলরুবা’ পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কবিতাগুচ্ছ’ এবং উপন্যাস ‘শতাব্দীর চিঠি’। এ ছাড়া তার সম্পাদিত ‘কবিতায় বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ সংযোজন হিসেবে সমাদৃত। তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য ছিলেন।

সংগঠক ও সমাজসেবী হিসেবেও তিনি বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকাস্থ কায়কোবাদ সাহিত্য মজলিসের সভাপতি, উত্তরা সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা এবং ঢাকা এপেক্স ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। 

সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি ত্রিভুজ পুরস্কার, বাংলাদেশ জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণপদক এবং এপেক্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

আরটিভি/এআর