images

বাংলাদেশ

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জেনারেল কলেজে রূপান্তরের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগে শিক্ষকরা

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩৫ পিএম

দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকারও দক্ষ জনশক্তি গঠনের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করে আসছে। তবে, কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কিছু নীতিনির্ধারক ও আমলাদের উদ্যোগে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোকে (টিএসসি) ধীরে ধীরে জেনারেল কলেজের আদলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি টেকনিক্যাল ট্রেড ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা হলেও নতুন নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রামে বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞানসহ নন-টেকনিক্যাল বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিষয়ভিত্তিক একাধিক ‘চীফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক)’ পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষকদের মতে, বর্তমানে ইন্সট্রাক্টর ও চীফ ইন্সট্রাক্টরদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা, বিভাগীয় প্রশাসনিক কাজ, বিভিন্ন শর্ট কোর্স পরিচালনা, ল্যাব ও ওয়ার্কশপের টুলস-ইকুইপমেন্ট ও কাঁচামালের ব্যবস্থাপনা, শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ বা সংযুক্তিকরণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ক্লাস পরিচালনা। অন্যদিকে নন-টেকনিক্যাল ইন্সট্রাক্টরদের প্রধান দায়িত্ব কেবল বিষয়ভিত্তিক তাত্ত্বিক ক্লাস পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

শিক্ষক নেতারা দাবি করেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে যেখানে আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন, যুগোপযোগী ল্যাব ও ওয়ার্কশপ স্থাপন, উন্নত যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন, সেখানে নন-টেকনিক্যাল পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের পুরাতন ৬৪টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩৪টিতে দ্বিতীয় শিফট চালু রয়েছে। বিদ্যমান কাঠামোতে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬৪টি চীফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) পদ থাকলেও নতুন অর্গানোগ্রামে প্রায় ২০৪টি চীফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত কার্যপরিধির জন্য এত বিপুল সংখ্যক পদ সৃষ্টি সরকারের উপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বোঝা চাপাবে এবং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের শামিল হতে পারে।

কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য টেকনিক্যাল শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সরবরাহ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বাস্তবে নন-টেকনিক্যাল পদ সম্প্রসারণের ফলে কারিগরি শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম পুনর্বিবেচনা করে কারিগরি শিক্ষার স্বার্থ, জাতীয় অর্থনীতি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চাহিদা এবং আর্থিক প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমে যেকোনো নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

আরটিভি/এসএইচএম