images

বাংলাদেশ

চিপসের প্রলোভনে নাতনিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০৯ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজারহাট থানায় এজাহার দায়ের করেন শিশুটির মা।

রোববার (৫জুলাই) সকালে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামে বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের কুমারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা (দাদু) হন। এই পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। চকলেট, চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায়শই তিনি শিশুটিকে কোলে নেওয়া বা দোকানে নিয়ে যাওয়ার বাহানায় নিজের কাছে ডাকতেন।

আরও পড়ুন
67

মাদরাসাছাত্রীকে নাতনি ডেকে ঘরে নিয়ে যান বৃদ্ধ, অতঃপর...

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে তিনি প্রায়ই নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার অজুহাতে তার ওপর বিকৃত যৌন নিপীড়ন চালাতেন। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে গোপন রাখে।

সর্বশেষ গত ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিজ ঘরে নিয়ে যান। সেখানে হাত-পা টেপানোর একপর্যায়ে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় শিশুটি প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথায় চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য কঠোর হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়িতে ফিরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। একপর্যায়ে মায়ের সে তার মা’কে বলে দেয়।

এই ঘটনা পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটির সভাপতির এমন বিকৃত লালসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশু নির্যাতনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

আরটিভি/এমএম