শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৪ পিএম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষকের দেওয়া ‘কোর্স টিচারের নাম ৩০০ বার সঠিকভাবে লিখে আনার’ নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শুক্রবার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের Entrepreneurship and Small Business Development কোর্সে ‘Growth of Entrepreneurship in Bangladesh’ বিষয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। গত ২৯ জুলাই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের কভার পেজ পর্যালোচনা করে দেখেন, ৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন কোর্স টিচারের নামের বানান ভুল লিখেছে।
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত নামের বানানের বিষয় নয়; বরং একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক নথিতে এমন ভুল দায়িত্বহীনতার পরিচয়। ভবিষ্যতে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় নামের বানানে সামান্য ভুলও বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করতে ভুল করা ৩২ জনকে তার নাম ৩০০ বার সঠিকভাবে লিখে আনার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, দুই-একজন শিক্ষার্থী এমন ভুল করলে আলাদাভাবে বুঝিয়ে বলা যেত। কিন্তু একটি ব্যাচের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী একই ভুল করায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ব্যক্তিগতভাবে তার নামের বানান ভুল হলে তার কিছু যায় আসে না, তবে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এমন ভুল সম্পর্কে সতর্ক করা তার দায়িত্ব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমদিকে তিনি এটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন। কারণ আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থী বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন। তবে পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেজ তার ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করা শুরু করলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। এমনকি শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে, যা তার ব্যক্তিগত জীবনকে বিঘ্নিত করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক লেখেন, একটি শ্রেণিকক্ষের বিষয় যে এত বড় আকার ধারণ করবে, তা তার কল্পনায়ও ছিল না। এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তার অভিযোগ নেই। তবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলতা শেখাতে শিক্ষক হিসেবে নিজেদের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
আরটিভি/এসকে