মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫ , ১২:৩৪ পিএম
রাজধানীর শাহবাগে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন রাজধানীর ৩০টি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ‘তুমি কে, আমি কে, আছিয়া আছিয়া’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ছোট-ছোট মিছিল নিয়ে এসে তারা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। অবরোধ কর্মসূচি থেকে ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তিসহ মোট ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীর। প্রতিবাদ জানাতে আসা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শাহবাগ উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু রমজানে জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ব্লকেড কর্মসূচির পরিবর্তে শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে পাশের ফাঁকা রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।
দাবিগুলো হচ্ছে —
১. ধর্ষকের শাস্তি জনসম্মুখে নিশ্চিত করতে হবে। যাতে সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়।
২. ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
৩. যদি কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা, মেডিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করা এবং ভিকটিম ও সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আর পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষকের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একটিতেও অসামঞ্জস্য থাকলে, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। ধর্ষণ মামলার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ধর্ষিত নারী এবং পুরুষের স্পার্ম পরীক্ষা করার জন্য ল্যাবরেটরির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. ধর্ষণের বিচার সালিশের মাধ্যমে করা যাবে না। এর বিচার নিশ্চিত করবে শুধুমাত্র রাষ্ট্র। সালিশি বিচার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অনৈতিক পন্থায় প্রশাসন কর্তৃক যদি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছাড়া পায়, তবে তদন্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করতে হবে।
৫. অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে সর্বোচ্চ ফাঁসি এবং অন্তত আমৃত্যু কারাদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
৬. বর্তমানে চলমান সব ধর্ষণ মামলার বিচার আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহি করতে হবে।
তারা বলেন, আজকের এই কর্মসূচিতে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, নটরডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালবাগ মডেল কলেজ, উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজ, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সবুজবাগ সরকারি কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, হামদর্দ কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
তারা আরও বলেন, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নৌবাহিনী কলেজ, সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন ঢাকা, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলসহ ৩০ কলেজের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুরো জায়গা জুড়েই বাড়তি পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএ