শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:০৬ পিএম
পাঁচ দশমিক ৭ মাত্রায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ঢাকা জেলার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পে রাজধানীর বংশাল আরমানীটোলা, মাতুয়াইল, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, কলাবাগান ও নিউমার্কেট এলাকার কয়েকটি ভবন এবং ঢাকা কলেজের ইলিয়াস হল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য বিভিন্ন সূত্র হতে পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে ঢাকায় এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়ে ৫৯ জন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন রাফিউল ইসলাম (২১), আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (৩০)। মৃতদের মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভূমিকম্পের পরপরই সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে, যার নম্বর হলো ০২-৪১০৫১০৬৫ এবং ০১৭০০-৭১৬৬৭৮।
এর আগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদীতে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেছেন, ঢাকা এবং এর আশপাশে বিগত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া ভূমিকম্পের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প।
তিনি বলেন, যেকোনো সময় বাংলাদেশে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে। ঠিক কবে হবে সেটা আমরা বলতে পারি না।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার বলেন, ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটিতে ভারত সীমান্তের কাছাকাছি বরকল ইউনিয়নে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এটিও অনেক শক্তিশালী ছিল। তবে ১৯১৮ সালে দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বারবার বলে আসছি ভূমিকম্পে মহড়ার বিকল্প নাই। সরকার ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকার্যের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট রাখে, সেখান থেকে দুর্নীতি করতে পারে। কিন্ত যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
আরটিভি/আরএ