বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৩৯ এএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে টাকা চুরির সন্দেহে গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার (২০) লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন। এই ঘটনার চার দিন পর আয়েশাকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কয়ারচর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকেও আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আয়েশা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে থাকার কথা বললেও সেখানে বসবাস করতেন না। হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগে তিনি ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। দুই হাজার টাকা চুরি করার অভিযোগে বাসার লোকজন আয়েশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অস্বীকার করেন। টাকা চুরির প্রমাণ পেলে পুলিশে দেওয়া হবে বলে ধমকানো হয় তাকে। চুরির বিষয়ে আবার তাঁরা জানতে চাইলে আয়েশা অস্বীকার করলে তাঁকে বাসায় থাকতে বলা হয় এবং গৃহকর্তা আজিজুল ইসলাম স্কুল থেকে বাসায় এলে পুলিশে দেওয়ার কথা বলেন। আয়েশা তাতে সম্মতি দেন। এরপর যে যাঁর মতো বাসায় ব্যস্ত থাকেন। একপর্যায়ে লায়লাকে ছুরিকাঘাত করেন আয়েশা। তাকে ধরে রাখায় লায়লার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে নাফিসাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন আয়েশা।
এ ঘটনার পর থেকে আয়েশা পলাতক ছিলেন। চুরি করে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন নদীতে ফেলে দেন। কোনো ফোন, নাম, পরিচয় না থাকায় তাকে খুঁজে পেতে সব ধরনের চেষ্টা চালাতে হয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। দুদিন পুলিশের তৎপরতা ও গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আসায় স্বামী জামালকে ঘটনা জানান আয়েশা। গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা সাভার থেকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কয়রাচরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকেই দুপুরে আয়েশাকে গ্রেপ্তার ও তার স্বামীকে আটক করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানায় নিহত লায়লার স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম নিহতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার চুরি হয়েছে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েকে হত্যা করেন গৃহকর্মী আয়েশা। তাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
আরটিভি/এসকে