বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৪৮ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার শেষে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দেশে ও বিদেশে কয়েক দফা চিকিৎসা শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই সাহসী তরুণ।
তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল আহাদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ।
ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ এক ভিডিওবার্তায় হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদি ভাইকে মহান আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমরা জানতে পেরেছি, হাদি ভাই আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন।” তিনি অভ্যুত্থানের পক্ষের সবাইকে হাদির পরিবারের পাশে থাকার এবং বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় অপারেশনের জন্য হাদির পরিবার সম্মতি দেয়। তখন তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অপারেশন শেষ হওয়ার পর আর আপডেট পাইনি। এরপর সরাসরি মৃত্যু ঘোষণার সংবাদ পাই।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় একটি গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেখানে হঠাৎ একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘাতকের সেই গুলিটি সরাসরি তার মাথায় বিদ্ধ হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কয়েক দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি হার মানলেন।
ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধারা তাকে ‘আন্দোলনের নির্ভীক যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে তার ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি তুলেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা।
আরটিভি/এআর