মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৪৯ পিএম
সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের মূলধারায় অবদান রাখতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন ‘ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজে বিত্তবানদের ও অর্থশালীদের সহযোগিতা এসব মানুষের জীবন আরও সুন্দর ও সহজ করতে পারে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল স্কয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক সেবার অঙ্গীকার নিয়ে ‘মানবিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের মধ্যে হুইল চেয়ার, অটোরিকশা, চিকিৎসা সহায়তা এবং অর্থ সহায়তা প্রদান কর হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে সৈয়দা মুনিরা ইসলাম বলেন, দেশের মৌলিক চাহিদা বঞ্চিত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরীদের দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তারই অংশ হিসেবে আজকের এই আয়োজন। আসন্ন ঈদে আজ আমি খুব আনন্দিত যে, সমাজের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি।

তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেকের আলাদা আলাদা গুণ আছে। এরা আসলে বিশেষ গুণসম্পন্ন শিশু। কিন্তু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন তার অনুপস্থিতি নিয়ে। তাদের ভাবনা থাকে, যখন তারা পৃথিবীতে থাকবে না, তখন এই সন্তানের কী হবে? কে দেখবে এই সন্তানকে? এ জন্য রাষ্ট্রে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা দরকার, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ নিরাপদে বাস করতে পারবে।

সৈয়দা মুনিরা ইসলাম আরও বলেন, দেশে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে চারজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু। এসব শিশু সাধারণ শিশুদের চেয়ে ব্যতিক্রম, একেবারেই পৃথক তাদের শিখন কৌশল। ফলে তাদের চাহিদাটা বোঝা এবং আচরণের অস্বাভাবিকতাগুলো দূর করে সাধারণ শিশুদের সঙ্গে স্বাভাবিক মেলামেশার চেষ্টা করানোটা বিশাল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে পড়ে, সামাজিক দলবদ্ধ সু-আচরণ ও সচেতনতা। মৌলিক চাহিদা গুলোর পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজন বিনোদন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, যাতায়াত প্রক্রিয়ার সুবিধাকরণ, পুনর্বাসন। কিন্তু সমাজের সচেতনতার অভাব থাকলে তারা সেই অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হবে, যা আমাদের সমাজে প্রকট।

আয়োজনে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহসভাপতি ও আরটিভির বার্তা প্রধান ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আমাদের সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করে না বলে আমরা মনে করি তারা স্বাভাবিক না। কিন্তু একটু অসুস্থতা, একটু প্রতিবন্ধকতার কারণে একজন মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনো অবস্থাতেই স্বাভাবিক না। আমরা যদি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ যাদেরকে আমরা প্রতিবন্ধী বলেও চিনি, তাদের সঙ্গে যদি মানবিক না হই, তবে আমরাও তো সুস্থ চিন্তার স্বাভাবিক মানুষ না।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে কিন্তু মানুষের স্বভাব এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে দেখলে বলে ‘মানবিক’ হও। অথচ মানবিক শব্দটা মানুষ থেকেই এসেছে।
অতএব প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে প্রথমেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে, সমাজকে বদলাতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোর প্রশাসন ব্যবস্থাকেও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য মানবিক হতে হবে।
ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলামের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মধুমতি ব্যাংক পিএলসি, পলমল গ্রুপ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধিরা এবং ‘বেনীবুনন’ এর সত্ত্বাধিকারী শাহেদুল ইসলাম হেলাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহ-সভাপতি ও আরটিভির হেড অব নিউজ জনাব মো. ইলিয়াস হোসেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে আরটিভির অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রাকিব, জেনারেল ম্যানেজার আবু সাদেক মোহাম্মদ আলীম, ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান কবির আহমেদ, অনলাইন ইনচার্জ আবু আজাদ, বায়ান্ন টিভির বার্তা সম্পাদক ও ইনচার্জ জয়নাল আবেদীনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ১০ বছরের পথচলায় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংগঠনটি নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা তৈরি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিশেষভাবে কাজ করছে।
পাশপাশি সচেতনতা তৈরিতে প্রচারণার অংশ হিসেবে আরটিভিতে নিয়মিত ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ ও কিশোরীদের বাল্য বিয়ে-স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক ‘সর্বজয়া’ শিরোনামে দুটি অনুষ্ঠান প্রচার করছে এই প্রতিষ্ঠান।
এ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, ও নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
আরটিভি/এআর