images

রাজধানী

ঢাকার সড়কে বসছে সোলার ট্রাফিক সিগন্যাল

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৮:০৭ পিএম

বুয়েটের নকশায় ঢাকার মোড়ে মোড়ে বসছে সোলার ট্রাফিক সিগন্যাল। রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সড়কের বাস্তব পরিস্থিতি এবং গণপরিবহনের বিশৃঙ্খল গতির ওপর ভিত্তি করে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিশেষ সেমি-অটোমেটিক ও পোর্টেবল (স্থানান্তরযোগ্য) ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট তৈরি করেছেন বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষাভবন ইন্টারসেকশন থেকে শুরু করে ফার্মগেট, মহাখালী হয়ে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত মোট ২২টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই লাইট ও সিগন্যাল সিস্টেম বসানোর কাজ চলছে। প্রাথমিক পাইলট প্রকল্প বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য প্রথম ধাপে প্রধান মোড়গুলো বেছে নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ফার্মগেট এবং শাহবাগসহ কয়েকটি মোড়ে এই লাইটগুলোর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে।

বুয়েটের এই কাস্টমাইজড প্রযুক্তি ঢাকার সনাতন ও প্রাচীন ট্রাফিক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সোলার পাওয়ার ও বহনযোগ্যতা। বুয়েটের উদ্ভাবিত এই লাইটগুলো চাকাযুক্ত এবং সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতে চলে। ফলে রাজনৈতিক সমাবেশ, ভিভিআইপি মুভমেন্ট বা জরুরি ডাইভারশনের সময় ট্রাফিক পুলিশ এগুলোকে সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে পারবে।
 
তিনি আরও জানান, ডুয়াল মোড কন্ট্রোল (সেমি-অটোমেটেড) সাধারণ সময়ে প্রি-সেট (পিক ও অফ-পিক আওয়ারের ওপর ভিত্তি করে) টাইমার অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে। তবে যানজটের তীব্রতা বেশি থাকলে ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারার বদলে রিমোট বা সুইচের মাধ্যমে লাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন
222222222222222222

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

প্রকল্পের আরেক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘অতীতে শত কোটি টাকার বিদেশি প্রযুক্তি এনে ঢাকার সড়কে ব্যর্থ হওয়ার পর, এই দেশীয় প্রজেক্টে ২২টি মোড়ের জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে মাত্র ১৮ কোটি টাকা। স্থানীয় বাজার থেকে পার্টস সংগ্রহ করায় এটি অত্যন্ত ব্যয় সাশ্রয়ী এবং ঢাকার জন্য উপযোগী।’
 
সিগন্যালগুলোকে এখনই শতভাগ স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার সড়কে যত্রতত্র পথচারী পারাপার, অবৈধ ইউটার্ন এবং লেনে বাস না দাঁড়ানোর মতো বিশৃঙ্খলা রয়েছে। 
 
তাদের ভাষ্য মতে, প্রথমে রাস্তায় ফেন্সিং (বেড়া), জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট বাস লেন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর এই সেমি-অটোমেটিক সিস্টেমকে ধীরে ধীরে পুরোদমে স্বয়ংক্রিয় বা ফুল-অটোমেটেড সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে।

আরটিভি/কেডি