বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৯:৩৬ পিএম
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) নিবিড় চিকিৎসা শেষে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ অপরিণত ও স্বল্প ওজনের শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিশুদের মা-বাবা ও স্বজনদের হাতে তাদের তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, নিওন্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাছসুম পারভীন।
চিকিৎসকরা জানান, গত ৫ এপ্রিল ৩০ বছর বয়সী এক মায়ের গর্ভে ৩৩ সপ্তাহ বয়সে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় পাঁচ শিশু দুই কন্যা ও তিন পুত্র। মাল্টিপল জেস্টেশনের কারণে গর্ভাবস্থাটি শুরু থেকেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। জন্মের পরপরই শ্বাসকষ্ট ও অপরিণত অবস্থার কারণে শিশুদের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
জন্মের সময় শিশুদের ওজন ছিল যথাক্রমে ১৪২০ গ্রাম, ১২৫০ গ্রাম, ১৪১০ গ্রাম, ৯৮৫ গ্রাম এবং ১৬২৫ গ্রাম। কয়েকজন শিশুর ওজন ছিল অত্যন্ত কম। জন্মের পর তাদের দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, বুক দেবে যাওয়া ও গ্রান্টিংসহ শ্বাসকষ্টের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়।
নিওন্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, শিশুদের চিকিৎসায় শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো, সিপ্যাপ সাপোর্ট প্রদান, সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) চালু এবং পরিকল্পিত আর্লি ডিসচার্জ নিশ্চিত করার ওপর।
তিনি বলেন, পাঁচটি শিশুকেই জন্মের পরপর সিপ্যাপ সাপোর্ট দেওয়া হয়। নিবিড় পর্যবেক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ধাপে ধাপে খাবার বৃদ্ধি এবং মায়ের বুকের দুধ নিশ্চিত করার মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের শ্বাসকষ্ট কমে আসে। জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই বুকের দুধ খাওয়ানো তাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এনআইসিইউ সূত্র জানায়, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে পরিবারকেও সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নিয়মিত ও সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস অনুসরণ করায় সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম রাখা সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল হলে ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার শুরু করা হয়। মায়ের বুকের সঙ্গে ত্বকের সংস্পর্শে রাখার এই পদ্ধতি শিশুদের ওজন বৃদ্ধি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মা-শিশুর বন্ধন উন্নত করতে সহায়তা করেছে।
জন্মের পাঁচ দিন পর, ৯ এপ্রিল পরিকল্পিত আর্লি ডিসচার্জের অংশ হিসেবে শিশুদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ফলো-আপ চিকিৎসা চলতে থাকে। ৩০ দিন বয়সে ফলো-আপে দেখা যায়, পাঁচ শিশুরই ওজন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তখন তাদের ওজন দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৭০০ গ্রাম, ১৫২০ গ্রাম, ১৬৪৫ গ্রাম, ১২১৫ গ্রাম এবং ১৮২৫ গ্রাম। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচ শিশুই সুস্থ রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বাংলাদেশের সীমিত সম্পদের মধ্যেও সময়মতো এনআইসিইউ কেয়ার, বুকের দুধ খাওয়ানো, সিপ্যাপ ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার নিশ্চিত করা গেলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রিম্যাচিউর নবজাতকদেরও সফলভাবে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
আরটিভি/এসকে