images

রাজধানী / আবহাওয়া

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ১২:০২ এএম

ফিলিপাইন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হওয়ায় ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে, যেখানে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডাউকি ফল্টসহ কয়েকটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ ভূ-শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। তার মতে, ওই এলাকায় ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এর আগে ২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে। ওই জরিপে বলা হয়েছিল, রাজধানীতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য করা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রাজধানীর মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
storm

রাতে দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস

তার মতে, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তাদের মতে, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব না হলেও যথাযথ প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে