images

রাজধানী

ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে খুন হন বিএনপি নেতা!

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০২:৫৬ পিএম

রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জোর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঞ্চল্যকর কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করেই খুন হয়েছেন আবুল বাশার।

শুক্রবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা। ও গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের নাম শোয়েব, আরমান ও নয়ন।

আরও পড়ুন
nkhali

৩ সন্তানকে ফেলে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী

পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা আরও বলেন, স্বজনেরা আবুল বাশারের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে গেছেন। সেখান থেকে ফিরে তারা আদাবর থানায় হত্যা মামলা করবেন। সেই মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ হত্যার ঘটনায় চারজন ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।

আটক চারজনকে নিয়ে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়েছে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিল। এ সময় হাবিব নামের এক ব্যক্তি নীরব নামের এক যুবককে মারধর করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনার জেরে পরদিন আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নবোদয় হাউজিং বাজার এলাকায় গিয়ে নীরবকে আবার মারধর করেন। তার বিরুদ্ধে নীরবকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারে হাবিবের কার্যালয়ে সালিস বসে। সালিস শেষে সাদ্দাম ও তার সমর্থকেরা নীরব ও তার বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. সাদ্দাম ও আদাবর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার (বাদশাহ) আহত হন। আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা আরও বলেন, বুধবারের হামলার ঘটনার আগেই সাদ্দাম আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

স্বজনেরা জানান, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। পরিবার নিয়ে আদাবর বি–ব্লকে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

আরটিভি/এসএইচএম