শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৭ পিএম
রাজধানী ঢাকার মিরপুরে পল্লবী এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেন সাঈদকে (৫০) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী কিশোরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার বড় ভাই তাদের অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করেন। এক বছর আগে তাদের মা মারা যান। প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করাসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী শৌচাগার থেকে ঘরে ফিরছিল। এ সময় তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান আনোয়ার।
সেখানে কিশোরীকে মারধর এবং মুখে বালিশ চাপা দিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেন। পরে অভিযুক্ত আনোয়ার ওই কিশোরীকে বিবস্ত্র ও অচেতন অবস্থায় বাসার পাশে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
শনিবার ভোরে এক প্রতিবেশী ওজু করার জন্য কলপাড়ে গেলে সেপটিক ট্যাংকে ওই কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন সাঈদকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পল্লবী থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
আরটিভি/এসএইচএম