images

রাজধানী

বাসা দেখার কথা বলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ, জিম্মি করে ডাকাতি

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৪ পিএম

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার নাম করে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে তিন নারীকে বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ও এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭) ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় যান। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষীও হন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

আরও পড়ুন
3

ছাত্রদল দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায় তারা।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে ১ লাখ টাকা লুটের টাকা উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা ও লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।

আরও পড়ুন
sscs

অপহরণের ১৪ দিন পর ঢাকায় উদ্ধার এসএসসি পরীক্ষার্থী

পুলিশের ভাষ্য, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন। পরে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশ এবং পরে নিরাপদে বের হতে সহযোগিতা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরটিভি/এমএম