শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:১৬ পিএম
এয়ারপোর্ট এলাকার হজ ক্যাম্প থেকে তালতলা নর্দা পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। কিন্তু এই পথটুকুই এখন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য এক মরণফাঁদ। আশকোনা, কাওলা তালুকদারপাড়া কিংবা গাওয়াইর—সবখানের চিত্র একই। রাস্তাজুড়ে শুধু কাদা আর নোংরা পানি।
এমন দুর্গম রাস্তায় কোনো ধরনের যানবাহনই চলে না। স্থানীয়রা তাই রাবিশ ও বালুর বস্তা ফেলে কোনোমতে হাঁটার পথ তৈরি করেছেন। কিন্তু কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াটা হয়ে যায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
এলাকায় বসবাসরত একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ‘আমার ছেলে দুই মাস আগে মারা গেছে। ছেলেকে দাফন করার জন্য এখান থেকে তিন মাইল কাঁধে করে নিয়ে গেছি। এই আশকোনা কেন অবহেলিত? আশকোনার নেতারা কী করছেন? আশকোনার বরাদ্দ কোথায় গিয়েছে, সব তদন্ত করা উচিত।’
রাস্তার এই বেহাল দশায় থমকে গেছে স্থানীয় অর্থনীতি। এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। লোকসান গুনতে গুনতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। একই দশা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর। শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে যেতে পারে না। স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে কমতে এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, ‘পরীক্ষার সময় পানি পার হয়ে যেতে হয়। অনেক ঝুঁকি থাকে। বৃষ্টি হলে আমরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে পারি না, আবার আনতেও পারি না।’
অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে আরেকজন বলেন, ‘দোকানপাট সবগুলো বন্ধ। এদিকে কোনো লোক আসতে পারে না।’
তবে বরাবরের মতোই আশ্বাসের বাণী দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিটি কর্পোরেশনের চলমান কাজের গতি দেখে হয়তো কিছুটা ছাড় দিই। আর যদি তারা ওইভাবে কাজ না করে, কিংবা ঠিকাদারের কোনো গাফিলতি থাকে, তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আরটিভি/এসএস