বুধবার, ১৬ জুন ২০২১ , ১২:০৪ পিএম
দীর্ঘ ৬ মাস কঠোর পরিশ্রমের পর সৌরচালিত সাইকেল উদ্ভাবন করেছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবক। তার বানানো সাইকেল জলে ও স্থলে দুই জায়গাতেই চলতে সক্ষম। তিনি সেই সাইকেলে করে পার হয়েছেন পদ্মা নদী। মাস্টার্স পাস করা সাইফুল এবার কাজ করছেন উভচর প্লেন আবিস্কারে।
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে সাইফুল। উভয়চর সাইকেল ছাড়াও সাইফুল অসংখ্য সৌরচালিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন। তার তৈরি ডিভাইসগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাস, রকেট, ড্রোন, ধান কাটার মেশিন, মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য সৌরচালিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা এলাকায় বসবাস করেন। কর্মরত আছেন জিএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ওষুধ কোম্পানির সিনিয়র মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হিসেবে। সাইফুলের কর্মজীবন শুরু হয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৌরশক্তি আলোর ফরিদপুরের সালথা উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে।
সাইফুল ইসলাম জানান, সৌরবিদ্যুতে চালিত সাইকেলটি তৈরিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সময় লেগেছে ৬ মাস। বর্তমানে তিনি সৌরচালিত স্পিডবোট তৈরিতে কাজ করছেন। বোটটি পানির পাশাপাশি চলবে ডাঙাতেও।
সাইফুলের স্বপ্ন আকাশ এবং পানিতে চালানোর জন্য একটি প্লেন বানানো। কিন্তু অর্থের অভাবে সবকিছু থমকে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অর্থিক এবং কারিগরি সহায়তা পেলে দেশের জন্য সৌরচালিত নতুন নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারতেন।
সাইফুলের বাবা রাজ্জাক মোল্লা বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে আমি গর্বিত। আমি তাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে পারি না। নিজে রোজগার করে সংসার চালায় এবং সৌরচালিত অনেক কিছু বানায়। অর্থের অভাবে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করে সাইফুল।
বাগাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান খাঁন বলেন, সাইফুল অনেক মেধাবী। তার এই মেধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন অর্থ ও গবেষণা।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের সদস্য দেবপ্রসাদ রায় বলেন, ওই যুবকের প্রতিভা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। সরকারি-বেসরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পেলে সাইফুল নতুন কিছু দেশের জন্য নতুন কিছু উপহার দিতে পারত।
মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সাইফুল যোগাযোগ করলে আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। আমরা তার সাফল্য কামনা করি। সাইফুল আমাদের উপজেলার গর্ব।
এসজে/পি