বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২ , ০৪:৪২ পিএম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মালেকার বাপের দোকান এলাকায় গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় চার বছরের শিশু তাসফিয়া আক্তার জান্নাত। হত্যাকাণ্ডে যে আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ঘটনার তিনদিন আগে ২১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
বুধবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, তাসফিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমন (২৩) ও তার সহযোগী সোহেল উদ্দিন (২৪), সুজন (২৬), নাইমুল ইসলাম (২১) এবং আকবর হোসেনর (২৬) অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার রাতে জেলার সুবর্ণচরের চরক্লার্কে অভিযান চালায় র্যাবের একটি দল। এ সময় ওই সন্ত্রাসীরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে তারা পিছু হটার চেষ্টা করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গোলাবারুদ, একটি পিস্তল, একটি পাইপগান ও ছয় রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে তাসফিয়াকে নিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মালেকার বাপের দোকান এলাকার ‘বন্ধু স্টোরে’ যান আবু জাহের। তাসফিয়ার জন্য চকলেট, জুস ও চিপস নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় মহিন, রিমন, আকবর, নাঈমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী মামুনের দোকানে এসে ‘তুই (আবু জাহের) ওইদিন বৈঠকে ছিলি’ বলে গালাগালি করে। এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে পাশে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
পরে আবু জাহের দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে ইট নিক্ষেপ করে। এতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাসফিয়া। পরে দুই রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে তাসফিয়া ও জাহের গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। গুলিবিদ্ধ তাসফিয়া ও আবু জাহেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয় স্থানীয়রা। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নেওয়ার পথে কুমিল্লায় পৌঁছলে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নানীর কোলে মারা যায় তাসফিয়া।
মাটি কাটার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে জানিয়েছেন আবু জাহের।
তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় ১৪ এপ্রিল দুপুরে তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বাদশা ও রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এ পর্যন্ত ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।