বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ , ১১:০৩ পিএম
ছাত্রদের উপদেষ্টা হওয়া বিষয়ে সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, আমি বিশ্বাস করি ছাত্রদের এই সরকার যাওয়া (উপদেষ্টা হওয়া ভুল হয়েছে)। আমরা সব সময় দেখতে চাই দেশে একটা গোষ্ঠী থাক, ছাত্রনেতারা তারা থাকবে নির্লোভ, তাদের মধ্যে কোনো লোভ থাকবে না ক্ষমতার। এরকম একটি গোষ্ঠী থাক। সেই ছাত্রদের মধ্যেই যখন দেখি ক্ষমতায় লোভ তখন মনে কষ্ট হয়। যখন পত্রপত্রিকায় দেখি আমাদের ছোট ভাইয়ের পিএস, এপিএসরা দুর্নীতি করে তখন কষ্ট লাগে। এপিএসরা যদি এতো টাকা কামায় তাইলে পিএসরা কি করেছে? যখন আমাদের ছোট ভাইদের দেখে যখন মানুষ তির্যক দৃষ্টিতে দেখে তখন মনে কষ্ট লাগে। যারা ছাত্রদের ক্ষমতায় বসিয়েছে তারা দেশের অনেক বড় ক্ষতি করেছে। আমরা আগে জানতাম বিপ্লব নাকি তার সন্তানদের খেয়ে ফেলে। এখন দেখি উল্টা সন্তানরাই বিপ্লব খেয়ে ফেলার অবস্থা তৈরি করেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল সাচাইল দারুল হুদা কাছেমুল উলুম মাদরাসা মাঠে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন চাই, এটা বড় অন্যায় হয়ে গেলো। রাজনৈতিক দল কি চায় নির্বাচন চায়। আমরা পলিটেশিয়ান আমরা কি চাই, আমরা কি টাকা চাই, আমরা কি সম্পত্তি চাই? আমরা চাই জনগণের ভালোবাসা এবং একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। এটা কি অন্যায়? নির্বাচন চাইলেই বলে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয় গেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আপনাদের সমস্যা কোথায়? নাকি নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় চলে যাবে এই জন্যই নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল আরও বলেন, কথায় কথায় অনেকেই বলেন ঈদের পরে আন্দোলন। আরে ভাই এই ১৫ বছরে ঈদের পরে যে, আন্দোলন এই কথা বলার মতো এমন কোনো দলওতো এই সাহস পায়নি। আমরা হয়তো আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কখনো বলেছি ঈদের পরে, কখনো এসএসসি পরীক্ষার পরে আন্দোলন, কখনো বলেছি রমজানের পরে আন্দোলন, বলতে হয়েছে। কিন্তু এই পনেরো ষোল বছরে কোনো দল এসে বলে নাই আপনাদের সাথে আন্দোলন করে জীবন দিব, আমরাও জেলকাটবো।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ১৫ দিনের মুক্তিযোদ্ধারা ১৫ বছরের মুক্তিযোদ্ধাদের যদি এসে বলে আপনাদের কোনো অবদান নেই, এটা মানা যায়? আমাদের নেতা তারেক রহমান এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। এখন শুনি অমুক মাস্টার-মাইন্ড, তমুক মাস্টার-মাইন্ড। আমাদের ধৈর্যের বাধ যাতে কেউ না ভাঙে। আমরা বর্তমান সরকারকে যৌক্তিক সময় দিয়েছি। আমাদেরও কিন্তু ধৈর্যের সীমা আছে, সেই সীমা যদি আপনারা ক্রস করেন মনে করবেন বিএনপি কিন্তু আন্দোলন স্থগিত রেখেছে, আন্দোলন কিন্তু বন্ধ করে দেয় নাই।
সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল আলম।
তাড়াইলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছাইদুজ্জামান মোস্তফার সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন লিটনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি খুসরুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সুমন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মারুফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ নেভিন প্রমুখ।
আরটিভি/এএএ