বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৩:১৪ পিএম
বগুড়ার সোনাতলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থাপনা ও সংকট দেখা দিয়েছে। মাত্র একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের ওপর ভরসা করে চলছে পুরো হাসপাতাল। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত রোগী।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে একজন এমবিবিএস ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। অথচ এ হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্যপদ ২৬টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১১ জন চিকিৎসক, এর মধ্যে ২ জন ডেপুটেশনে। কার্যত ৯ জন চিকিৎসকের থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত আছেন মাত্র একজন। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। কেউ বলছেন তিনি মিটিংয়ে, আবার তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে জানা যায় তিনি ছুটিতে আছেন।
রোগীরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসা নিতে এসে আউটডোরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ মজুদ নেই। ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি ফ্যান নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, বেডে চাদর নেই, রাতে মশারি দেওয়া হয় না। রোগীরা মশার কয়েল ব্যবহার করেই রাত কাটাচ্ছেন। খাবার ব্যবস্থাও নিম্নমানের। প্রতিদিন দুইবেলা দেওয়া হয় অতিরিক্ত পানি মেশানো পেঁপের ঝোল, আর সকালে দেওয়া হয় ছোট, পচা সাগর কলা। যা রোগীরা খেতেও পারেন না।
এ ছাড়া হাসপাতালের দেয়ালে শ্যাওলা ধরেছে, পলেস্তারা খসে পড়ছে, জানালার গ্রিলেও ধরেছে জং। ওষুধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্রে দেওয়া বেশিরভাগ ওষুধই হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া যায় না। হাতে গোনা কিছু সাধারণ ওষুধ—প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, মেট্রোনিডাজল, হিস্টাসিন—পাওয়া গেলেও বাকি ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।
হাসপাতালে নেই কোনো জেনারেটর। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতাল চত্বর অন্ধকারে ডুবে যায়, রোগীরা পড়ে যান নিরাপত্তাহীনতায়। হাসপাতালের চারপাশে ঝোপঝাড়, সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রবে রোগীদের অবস্থান করা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। ভেতরে-বাইরে সর্বত্র নোংরা আবর্জনা ও দুর্গন্ধে পরিবেশ হয়ে উঠেছে অসহনীয়।
প্রতিদিন আউটডোরে ৩৫০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ইনডোরে গড়ে ৪৫ থেকে ৬০ জন রোগী বেড বা বারান্দায় অবস্থান করেন। শুধু সোনাতলা নয়, আশপাশের গাবতলী, গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন।
সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার সংকটের বিষয়টি আমি জেনেছি। এ সমস্যা নিরসন এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নে টিএইচও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমকে