images

দেশজুড়ে

খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পাবনার গাছিরা

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:৩০ পিএম

পাবনায় খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। গ্রামীণ জনপদে শীতের আগমনী বার্তায় খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে গাছের ডাল ও শাখা-প্রশাখা পরিষ্কার করছেন গাছিরা। এমনই দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। 

জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া, গয়েশপুর, হেমায়েতপুর, দোগাছি ভাড়ারা, টেবুনিয়া, মালিগাছা ও মজিদপুর এলাকায়, আটঘরিয়া উপজেলার রায়পুর-পাটস্বর ও সিংহড়িয়া এলাকায়, ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া (লোকসেডো), মুলাডুলি, শেখপাড়া, আরাকান্দি ও এরশাদ মোড় এলাকা, বেড়া উপজেলার টাংবাড়ী,মাষ্টিয়া, দিঘলকান্দি, চাকলা, বরশিলা এলাকা,সাঁথিয়া উপজেলার মরিচপুরান, গৌরীগ্রাম, কলাগাছি, হাপানিয়া, ধুলাউড়ি ও ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, সুজানগর উপজেলার হাসানপুর, খলিললপুর,সাগরকান্দী, বস্তাল, দুর্গাপুর, শান্তিপুর, ভায়না, তাতীবন্দ ও খা পাড়া এলাকা, ফরিদপুর  উপজেলার পুঙ্গলী ও ডেমড়া অঞ্চল, ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাড়-ভাঙ্গুড়া,খানমরিচ ও অষ্টমনিষা এলাকা ও চাটমোহর উপজেলার হিরপুর, ছাইখেলা, ডিবিগ্রাম, নিমাইচরা, হান্ডিয়াল ও প্বার্শডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে গাছিরা।

তবে জেলার উল্লেখিত এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহ করা হলেও স্থান ও চাহিদা ভেদে একেক এলাকার রস একেক কাজে ব্যবহৃত হয়। ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর এলাকায় গাছিরা সংগৃহীত রস থেকে পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করে থাকেন। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলার গাছিরা সংগৃহীত রস দিয়ে লালী গুড় তৈরি করেন। তবে এসকল এলাকার বেশিরভাগ গাছিরা খেজুরের রস খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকার গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের লক্ষ্যে গাছ প্রস্তুত (পরিস্কার করা, গাছ ঝোড়া) করতে কাজ করছেন তারা। গাছ প্রস্তুত শেষে গাছের পরিস্কার অংশে নলি লাগিয়ে তাতে ছোট-বড় বাসন বেঁধে রস সংগ্রহ করবেন তারা। তবে গাছ প্রক্রিয়াজাত করে রস সংগ্রহ করতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে তাদের।

654465

সুজানগর উপজেলার খা পাড়া এলাকার একজন গাছি জানান, শীতের আগমনের শুরুতেই এবার গাছ প্রস্তুত করছি। একটা গাছের ডালপালা কেটে প্রস্তুত করতে কয়েকদিন সময় লাগে। রস সংগ্রহের জন্য সাধারণত মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হয়। এসকল হাড়ির ধারণ ক্ষমতা ৮ থেকে ১০ লিটারের মত হয়। একটা গাছ থেকে দুই-তিন মাস রস পাওয়া যায়। গাছ ভেদে প্রতিদিন ৪ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়।

সাঁথিয়া উপজেলার মরিচপুরান এলাকার খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি রজব শেখ জানান, এখন আর বেশি গাছ নাই। সারা এলাকা মিলে ১২ থেকে ১৫টা গাছ আছে। এত পরিশ্রম করে রস সংগ্রহ করলেও এ দিয়ে এখন আর সংসার চলে না। 

জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পাটালি গুড় উৎপাদন কারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রণোদনা দিলে গাছিদের সংগৃহীত রস থেকে মানসম্মত মানের পাটালি ও ঝোলা গুড় উৎপাদন করা সম্ভব। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা যেতে পারে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম বলেন, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তাল ও খেজুর গাছের চারা রোপনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। একটা সময়ে বেশি পরিমাণ খেজুরের রস উৎপাদিত হবে। তবে গুড় উৎপাদন কারীদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। তবে আপনি যেহেতু বললেন, ডিডি স্যারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করব।

আরটিভি/এমএ