বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ , ০৭:২০ পিএম
কাঠ দিয়ে তৈরি মমিন মসজিদ নানা ধরনের কারুকার্যখচিত। এ মসজিদ স্থানীয়ভাবে ‘কাঠ মসজিদ’ নামেও পরিচিত। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মমিন উদ্দিন আকন ১৯১৩ সালের প্রথম দিকে এ মসজিদ নির্মাণ করেন।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে তিনি হরকুমার নাথকে মাসিক ৪০ টাকা বেতনে মসজিদ তৈরির প্রধান মিস্ত্রি হিসেবে নিয়োগ করেন। দীর্ঘ ৭ বছরে ২২ জন মিস্ত্রির নিরলস পরিশ্রমে ১৯২০ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব শৈল্পিক ভাবনা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে মসজিদটি তৈরি করা হয়। মমিন মসজিদ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় শাল, সেগুন ও লোহা কাঠ। কাঠগুলো মিয়ানমার, ত্রিপুরা ও আসাম থেকে সংগ্রহ করা।
কাঠামো তৈরিতে লোহার পেরেক ব্যবহার না করে কাঠের শলা ব্যবহার করা হয়েছে। ২৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের মসজিদটির ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পাটাতনের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে দ্বিতীয় আরেকটি দোচালা টিনের ছাউনি। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণে দুটি করে এবং পূর্ব ও পশ্চিমে চারটি করে জানালা। পূর্ব দিকে একটিমাত্র প্রবেশদ্বারে কারুকার্যখচিত দুটি পিলারযুক্ত দরজা রয়েছে, যা মসজিদ নির্মাণের সূক্ষ্ম শিল্পকর্মকে ফুটিয়ে তুলেছে। কাঠের ওপর আরবি ক্যালিগ্রাফি মসজিদের নির্মাণশৈলীকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে।
মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে। এটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষণ করছে। বিভিন্ন সময় বর্ষার কারণে নামমাত্র কিছু কাঠ বা রঙের ক্ষতি হলেও পরে মেরামত করে সৌন্দর্য ধরে রাখা হয়েছে। ইউনিসেফ প্রকাশিত বিশ্বের অনন্য মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত ৪০০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে মসজিদটির সচিত্র বর্ণনা আছে। তা ছাড়া বরিশাল বিভাগের মধ্যে শুধু এ মসজিদের আলোকচিত্র ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের স্থাপত্য গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে।
বংশের উত্তারাধিকার সূত্রে মসজিদটি নির্মাণের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নাতি (দৌহিত্র) আবুল কালাম আজাদ আকন বর্তমানে মসজিদটি দেখভাল করেন।
তিনি জানান, মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর করা দরকার। মসজিদের যত সংস্কার করা দরকার সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। রৌদ্রে বৃষ্টিতে কাঠগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিলীন হয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী মমিন মসজিদটি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দৃষ্টি নন্দন মমিন মসজিদ আমাদের জাতীয় সম্পদ। সরকারের কাছে মসজিদটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি এটি ভালো করে সুরক্ষার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম জানান, মসজিদটির সার্বিক উন্নয়নে আমরা চেষ্টা করছি। মসজিদটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় তার জন্য পরিকল্পনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এস