শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:০৫ পিএম
ভূমিকম্পে নরসিংদীর গাবতলীতে ছাদের কার্নিশ ধ্বসে নিহত পিতা ও পুত্রসহ মোট পাঁচজনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে, ৩ জনের জানাজা সম্পন্ন শেষে রাতেই দাফন করা হয়েছে। অপরদিকে পিতা-পুত্রের প্রথম জানাজা শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত সাড়ে বারোটার দিকে গাবতলী মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভূমিকম্পের সময় ছাদের কার্নিশ ধ্বসে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর মারা যায় সদরের গাবতলী এলাকার দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৩৭) ও তার ছেলে হাফেজ মো. ওমর (৮)। এছাড়া, পলাশের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) ও নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং শিবপুরের জয়নগর এলাকার ফোরকান মিয়া (৪৫) মারা যায় যথাক্রমে মাটির দেয়াল ধ্বসে, আতংকে স্ট্রোক করে ও গাছ থেকে পড়ে মারা গেছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের ঘটনা ঘটায় মরদেহের পোস্টমর্টেম ছাড়াই শুক্রবার সন্ধ্যার পর নিহত কাজেম আলী, নাসির উদ্দিন ও ফোরকান মিয়ার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয় নিজ এলাকাতেই।
অপরদিকে শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে নরসিংদীর গাবতলীতে প্রথম জানাজা শেষে পিতা পুত্রের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। সেখানে শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
নরসিংদীতে অনুষ্ঠিত জানাজায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সহ এলাকাবাসী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ভবন তৈরির নিয়মকানুন যথাযথ মেনে চলাসহ ভূমিকম্প প্রতিরোধে কাজ করার কথা বলা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্কে জানিয়েছে নরসিংদীর জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসহ শতাধিক ভবনে ফাটলের পাশাপাশি ৫ জন নিহতসহ বহু আহতের কথা জানায় তারা।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ভূমিকম্পের প্রভাবে সদর, পলাশ ও শিবপুরে বাবা-ছেলেসহসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে সমন্বয় করে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা মতে পরবর্তীতে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
আরটিভি/এফএ