শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ , ০৮:৩৪ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন উপকূলে জেলে আব্দুল গণির জালে এবার ধরা পড়েছে প্রায় ৩৩ কেজি ওজনের সোনালি পোয়া।
শনিবার (২১ নভেম্বর) সকালে আবদুল গণির জালে মাছটি ধরা পড়ে। বিকেলে মাছটি ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
আবদুল গণি বলেন, আজ ভোরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে ছেঁড়াদিয়ার পশ্চিম সাগরে তার মালিকানাধীন একটি ট্রলার থেকে জাল ফেলা হয়। সকাল আটটার দিকে জালে আটকা পড়ে বড় একটি কালো পোপা মাছ। মাছটি কাঁধে তুলে সেন্ট মার্টিন বাজারের ফিশারিতে মেপে ওজন দেখা গেছে ৩২ কেজি ৮০০ গ্রাম। মাছটি কেনার জন্য অনেকে ভিড় করছেন।
জেরে আব্দুল গণি সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে বের হন। মাছ ধরার একপর্যায়ে তার জালে বড় আকৃতির একটি পোপা মাছ ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ৩২ কেজি। তিনি মাছটির মূল্য চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বললেও এখনো বিক্রি হয়নি। মাছটি দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় জমিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে তার জালে একের পর এক বড় বড় পোপা মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ বিক্রি করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার জালে নিয়মিত পোপা মাছ ধরা পড়ায় স্থানীয়রা তাকে ‘পোয়া গণি’ নামে ডাকেন।
৩৩ কেজি ওজনের পোপা মাছের দাম ৭ লাখ টাকা কেন—জানতে চাইলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মৎস্য ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন বলেন, বায়ুথলির কারণেই পোপা মাছের দাম বেশি। একেকটি বায়ুথলির দাম ছয়-সাত লাখ টাকা। এসব দিয়ে দামি ওষুধ ও মূল্যবান সার্জিক্যাল সুতা তৈরি হয়। তবে মাছটি কেটে বিক্রি করলে প্রতি কেজিতে পাওয়া যায় ৭০০-৯০০ টাকা।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পোপা মাছের বায়ুথলি দিয়ে থাইল্যান্ড, হংকং ও যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি হয়। তাই পোপা মাছের দাম বেশি। মাছের পেট কেটে বায়ুথলি বের করে রোদে শুকানো হয়। তারপর বিদেশে রপ্তানি করা হয়। কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছটায় পোপা মাছের বায়ুথলি রপ্তানির কয়েকটি কারখানা আছে।
এর আগে, ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর আবদুল গণির জালে ধরা পড়েছিল ৩৪ কেজি ওজনের আরেকটি বড় পোপা মাছ। মাছটি বিক্রি করেছিলেন ৮ লাখ টাকায়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে অন্তত ১২টি লাল ও কালো পোপা ধরা পড়েছিল গণির জালে। সব কটির ওজন ছিল ৩০ থেকে ৪০ কেজির মধ্যে।
আরটিভি/এমএ