বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০১:৫৮ পিএম
রাজশাহীর পবা উপজেলায় বিয়ের মাত্র চার দিনের মাথায় আলাউদ্দিন ইসলাম টগর (৩৫) নামে এক যুবক বাসের ধাক্কা খেয়ে নিহত হয়েছেন। হাতের মেহেদির রং না শুকাতেই স্বামীহারা হলেন নববধূ ইলমা খাতুন। আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার ও আশেপাশের এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুলপাড়া গ্রামের বাড়ির সামনে টগরের মরদেহ আনলে কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। নববধূ ইলমা স্বজনদের কাঁধ ধরে এগিয়ে এসে শেষবারের মতো স্বামীকে দেখেন। এসময় টগরের ভাইয়ের অসহায় কণ্ঠে বলা, ‘তুমি টগরকে মাফ করে দাও...’ শুনে ভেঙে পড়েন ইলমা। তার কান্নায় চারপাশের মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরিবার জানায়, বিয়ের চারদিন আগে রাজশাহীর তেতলাডাঙ্গায় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ইলমাকে পছন্দ করেন টগর। পছন্দ মিলতেই বিয়ের আয়োজন হয়। নতুন বউ নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লিলিহল এলাকার বাঁশের আড্ডায় বোন রুমিকে বাসে তুলে দিতে গেলে ঘটে দুর্ঘটনা। বাসের হেলপার জানায় সিট আছে। কিন্তু বাসে উঠে দেখা যায় সিট নেই। এ নিয়ে তর্ক বাধে টগর ও বাস স্টাফদের মধ্যে। পরিবারের অভিযোগ, তর্কের জেরে চলন্ত বাস থেকে টগরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় হেলপার ও সুপারভাইজার।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।
স্থানীয় এক নারী বলেন, ছেলেটার বিয়ের বয়স এক সপ্তাহও হয়নি। মেয়েটার হাতে মেহেদির রং এখনো শুকায়নি। এই বয়সেই বিধবা হয়ে গেল সে।
টগরের বন্ধু বলেন, বিয়ের রাতে আমরা দেখতে গিয়েছিলাম। কে জানত এত তাড়াতাড়ি তাকে হারাতে হবে।
চাচাতো ভাই আল আমীন ভুলু জানান, চার দিনের বৌ রেখে ছেলেটা চলে গেল। দুই পরিবারই শোকে ভেঙে পড়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই দুলাল হোসেন কাশিয়াডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ বাসটি জব্দ করলেও চালক ও হেলপার এখনো পলাতক।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী বলেন, হত্যা মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরটিভি/এসকে