বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০২:১৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চের পাশে, দীর্ঘদিন ধরে গান গেয়ে সংসার চালানো জন্মান্ধ হেলাল মিয়া ও তার পরিবার ছয় দিন বন্ধ থাকার পর আবার গান গাইতে শুরু করেছেন।
হেলাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের গান করার প্রতি বাধা ও ভিক্ষার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের পরামর্শ দেওয়ার কারণে তারা ছয় দিন মঞ্চ থেকে দূরে ছিলেন। গত বুধবার কিছু যুবক তাদের গান গাইতে বাধা দেন ও সরঞ্জাম ভাঙার হুমকি দেন। ফলে পরিবারটি নিরাপত্তার আশ্রয়ে বাড়ি চলে যান।
এই ঘটনার পর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা আলেম-উলামাদের সঙ্গে আলোচনা করে আশ্বাস পান যে তাদের আর কোনো বাধা দেওয়া হবে না। এর পর তারা মঙ্গলবার(২ ডিসেম্বর) থেকে আবার গান গাইতে শুরু করেন।
হেলাল মিয়া বলেন, শঙ্কা ছিল কিন্তু গান করার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। হাফিজুর রহমান মোল্লা জানান, আশা করি আর কোনো সমস্যা হবে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জন্মান্ধ হেলাল মিয়া ও তার পরিবার দেশের অন্যতম অনন্য গান পরিবেশক। ১৩ সদস্যের পরিবারে ৯ জন জন্মান্ধ, তারা মূলত গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। হেলাল মিয়া, তার ছেলে সাদেক, ফারুক, তারেক, বারেক মিয়া, মেয়ে খায়রুন্নেছা, নাতনি রোকসানা বেগম, নাতি মোস্তাকিম ও মুজাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে গেয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
হঠাৎ সম্প্রতি কিছু লোক তাদের গান গাইতে বাধা দেয়। ভিক্ষার পরামর্শ দিয়ে সরঞ্জাম ভাঙার হুমকি দেয়। ভয়ে পরিবারটি গান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়। পরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের উদ্যোগে সমস্যা সমাধান হয় এবং তারা পুনরায় মঞ্চে ফিরে গানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে।
আরটিভি/এসকে