images

দেশজুড়ে

খেলাফত মজলিস নেতার রাস্তা দখল, যুবদল নেতার প্রতিবাদ 

বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০২:৩১ এএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি গ্রামের সরু রাস্তা আজ বড় সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি এই পথটি ছিল সাতটি গ্রামের হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভরসা— স্কুলে যাওয়া শিশুদের হাঁটার পথ, কৃষকের বাজারে যাওয়ার একমাত্র সড়ক, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জীবনরেখা। 

সেই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন কয়েক ফুট জায়গা দখল হয়ে সংকুচিত হয়ে গেছে পাকা দেয়ালের নিচে। অভিযোগ উঠেছে খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা আব্দুল ওহিদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকায় সরকারি রাস্তার দুই থেকে তিন ফুট অংশ দখল করে পাকা বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করায় দেবপুর, গোবিন্দপুর, তুলসীপুর, মোহনপুর, কালিকাপুর, দেবনগর ও অলিপুর— এই ৭ গ্রামের প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কোনো গাড়ি পথটিতে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। বড় কোনো যান তো দূরের কথা, জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সও এই পথে আসতে সাহস করছে না। ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই মানবিক সংকটের প্রতিবাদেই ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ধর্মঘর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ও আলোচিত জুলাই মামলার বাদী আমিনুল রহমান আমিন। তার ভাষায় ছিল ক্ষোভের সঙ্গে মানুষের দুঃখ–দুর্দশার হাহাকার। তিনি বলেন, জামায়াত জোটের প্রভাব দেখিয়ে সরকারি রাস্তা দখল করে তারা দেয়াল তুলছে। মানুষ কষ্টে আছে— এটা কি কেউ দেখবে না? রাজনৈতিকভাবেও, মানবিকভাবেও আমরা এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি। 

অভিযুক্ত খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আব্দুল ওহিদ অবশ্য নিজ অবস্থানে অটল। তিনি বলেন, পারিবারিক কবরস্থান রক্ষার জন্য দেয়াল করেছি। রেকর্ড অনুযায়ী ভুল করিনি। তবুও প্রয়োজনে দেয়াল ভাঙতে প্রস্তুত। 

এদিকে, মাধবপুর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যদি কোনো যুবদল নেতা অযথা কথা বলে, দলীয়ভাবে জবাব দেওয়া হবে। আর আমাদের কোনো নেতা ভুল করলে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। 

রাস্তা এখনো সংকুচিত। মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ দুর্ভোগ। এলাকাবাসী বলছেন, ভয় ও চাপের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মানুষের একটাই দাবি— রাস্তা আমাদের সবার। রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ মানুষের জন্য এই পথটা ফিরিয়ে দিন। 

আরটিভি/কেএইচ