images

দেশজুড়ে

রাস্তা যেন গলার কাঁটা

বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৪৩ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ না করেই ঠিকাদার লাপাত্তা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ করার পর বাকি কাজ না করায় পোড়াহাট, ঢেলাপীর বাজার, হাজারী হাট বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ রংপুর জেলার তারাগঞ্জ বাজারের সঙ্গে সংযোগকারী এই রাস্তা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। হাজারী হাট থেকে তারাগঞ্জ বাজারের ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। রিকশাচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এই রাস্তা দিয়ে।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পোড়াহাট থেকে ঢেলাপীর বাজার, হাজারী হাট বাজারসহ রংপুর জেলার তারাগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় নীলফামারীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস ইসলাম ব্রার্দাস ও মের্সাস কেবিসি (জেবিসি) এর সঙ্গে চুক্তি করা হয়। ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হলে চলতি বছরের চলতি মাসেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। ২০২৩ সালে ৬ আগস্ট কাজ সমাপ্ত করার কথা থাকলেও কাজ সম্পূর্ণ করতে পারিনি। সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল কাজ সমাপ্ত করার কথা থাকলেও কাজ না করে লাপাত্তা ঠিকাদার।

স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদার নীলফামারী জেলার আওয়ামী লীগ প্রভাবশালী নেতার হওয়ার কারণে যে ১০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে তা ঠিক মত করেনি। বাকী ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ না করেই লাপাত্তা ঠিকাদার। হাজারী হাট থেকে তারাগঞ্জ বাজারের ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। বিশেষ করে হাজারী হাট থেকে খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার অবস্থা করুন। এই দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। তাছাড়া নীলফামারী জেলার সবচেয়ে বড় হাট ঢেলাপীড় হাট এই রাস্তার কোল ঘেঁষে।

রংপুর জেলার তারগঞ্জ থানার চলাচলের সহজ মাধ্যম এই রাস্তা। রাস্তার পাথর-সুরকি উঠে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরা সড়কগুলো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।

ভ্যান চালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ রাস্তায় দিয়ে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে পরিষদের সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচলে প্রতিদিন দুর্ঘটনা লেগেই আছে। তাছাড়া প্রতিদিনই কোন না কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। আগের চেয়ে আয় রোজগার কম হয়।

পলিপাড়ার স্থানীয় মাহাবুল হোসেন বলেন, কোনো রোগীকে এই রাস্তা দিয়ে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া যায় না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন বয়স্করা। রাস্তায় ধুলোবালি ও ভাঙার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় হাজারী হাট বাজারের ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম বাবু জানান, যতদিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে খানাখন্দ। দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের। ঠিকাদার যতটুকু কাজ শেষ করেছিল, সে অংশটুকুও এখন নষ্ট হওয়ার পথে। আমাদের দাবি, খুব দ্রুত এই রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু করা হোক।

হাজারী হাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লৎফর চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন যাবত রাস্তাটির খারাপ অবস্থা। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল অনেক কষ্টসাধ্য, এলাকাবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়ে উঠেছে এটি। বেশি ভোগান্তির শিকার খেটে খাওয়া মানুষ। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস ইসলাম ব্রার্দাস ও মের্সাস কেবিসির (জেবিসি) স্বত্বাধিকারী হাজী মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় কোন ধরনের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আলী রেজা রাজু বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করার অপারগতা প্রকাশ করায় কাজগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নতুন ইস্টিমেট করে পাঠানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করায় তাদের ৭৭ লাখ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। খুব দ্রুত দরপত্র দিয়ে নতুন করে কাজ করা হবে। 

আরটিভি/আরএ