images

দেশজুড়ে

কক্সবাজারে তৈরি হলো প্লাস্টিক দানব, পৃথিবীকে জানান দিচ্ছে বর্জ্যের ভয়াবহতা

বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:২৩ পিএম

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতা ছড়াতে নির্মিত হলো এক নজরকাড়া ‘প্লাস্টিক দানব’। সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল ভাস্কর্যটি দূর থেকেই অনেককে চমকে দিচ্ছে। তবে এটি আসল কোনো দানব নয়, বরং সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি প্রতীকী ভাস্কর্য।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ‘প্লাস্টিক দানব’ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম, বিচ ম্যাজিস্ট্রেট আজিম উদ্দিন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, গত চার মাস ধরে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের বিভিন্ন সৈকত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ৮০ টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য। এর মধ্য থেকে ৬ টন বর্জ্য ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের একদল শিল্পী তৈরি করেন বিশালাকৃতির এই ভাস্কর্য।

শিল্পীদের দাবি, এটি ওশান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘প্লাস্টিক দৈত্য’ ভাস্কর্য।ভাস্কর্যটি পর্যটন মৌসুমজুড়ে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হবে প্লাস্টিক দূষণবিরোধী পথনাটক, সংগীতানুষ্ঠান ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম।

পরিবেশকর্মী ইসলাম মাহমুদ বলেন, নদী ও সমুদ্র দূষণের প্রধান নিয়ামক এখন প্লাস্টিক। অপচনশীল এসব বর্জ্য মানবজাতিকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের ভাস্কর্য সচেতনতা জাগাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নীতির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ইতোমধ্যে দেশজুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছেন। এতে একদিকে সরকারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমছে, অন্যদিকে মানুষও রিসাইকেলের গুরুত্ব বুঝতে পারছে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে আগামী ছয় মাস ধরে তারা প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে কাজ করবে। রিসাইকেল ছাড়াও সচেতনতামূলক ভাস্কর্য প্রদর্শনী থাকবে পুরো সময়জুড়ে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, সমুদ্র সৈকতকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা করতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই হবে। পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে প্রকৃত সফলতা আসবে। 

পরিবেশ রক্ষায় এমন অভিনব উদ্যোগ কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আরটিভি/এসকে