শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৫৮ পিএম
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের তিনটি পরিবারকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আলমগীরের নেতৃত্বে হিরন মিয়া, বাবুল মিয়া, জাহির উদ্দিন, হামিদ আলীসহ তার লোকজন কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে।
অবরুদ্ধ থাকা তাজপুর গ্রামের দুলাল মিয়া, বিলাল মিয়া ও হেলাল মিয়াসহ তিন পরিবারে নারী-পুরষ, ছেলে মেয়ে নিয়ে অন্তত ২৪ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে চলাচলের রাস্তা করে দেওয়া এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
অবরুদ্ধ থাকা নারী রাজিয়া সুলতানা বলেন, কিছু আগে আমার স্বামী দুলাল মিয়ার ভাই জালাল মিয়ার সাথে আলমগীর মেম্বারের চাচাতো ভাই আব্দুল হাসিমের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে এখন আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করে বাড়ির একদিকে বেড়া দিয়ে দেয়। সকালে আমার বাচ্চা মাদরাসায় যাওয়ার সময় দেখি আমাদের রাস্তাসহ সবদিকে কাটা তারের বেড়া দেওয়া।
তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, দুলাল মিয়া, বিলাল মিয়াদের নিজেদের কোন রাস্তা নেই। এটা আমাদের জায়গা, আমরা বেড়া দিয়েছি, এটা আমাদের পারিবারিক কবরস্থানের জায়গা। তারা যদি অনুরোধ করে চলাচলের রাস্তা চায় রাস্তা করে দিব।
একই গ্রামের সফিকুল ইসলাম ও নজির হোসেন বলেন, এই রাস্তাটি গ্রামের পাঞ্চাতি। এই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের লোকজন বর্ষাকালে চলাফেরা করে। এই রাস্তা বন্ধ করার এখতিয়ার কারও নেই।
গ্রামবাসী জানান, কয়েক বছর আগে আলমগীরের পিতা গ্রামের কবরস্থানের জায়গা নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী আইনগত ব্যবস্থা নিলে গ্রামবাসীর পক্ষে রায় হয়। এরপর আলমগীর আবার আদালতে আপিল করেন। গ্রামবাসীর কবরস্থান হিসেবে তারা এটার উন্নয়ন কাজ করছেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লিটন চন্দ্র দাস বলেন, নিজেদের জায়গা হলেও এভাবে কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা কারও এখতিয়ার নেই। বিষয়টি অমানবিক ও দৃষ্টিকটু।
আরটিভি/এমএ