images

দেশজুড়ে

জেলের জালে ধরা পড়ল ২ মণের পাখি মাছ

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৫৬ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ৮০ কেজি (২ মণ) ওজনের একটি ফ্লাইং ফিস বা পাখি মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি গোলপাতা মাছ নামেও পরিচিত। 

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে মাছটি মহিপুর মৎস্য মার্কেটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে মাছটি এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। এর আগে গত পরশু গভীর বঙ্গোপসাগরে এফবি নূরজাহান নামের একটি ফিশিং ট্রলারে মাছটি ধরা পরে।

মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছটির পিঠে বিশাল আকারের পাখনা থাকায় স্থানীয়দের কাছে পাখি মাছ নামে ব্যাপক পরিচিত।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন বলেন, উপকূলে এসব মাছের চাহিদা না থাকায় তেমন একটা দাম ওঠে না। মাছটি খোলা বাজারে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। মাছটি ১১২ টাকা কেজি ধরে ৯হাজার টাকায় কিনে নেন মুন্নী ফিসের স্বত্বাধিকারী জাহিদুল ইসলাম রাজীব। তিনি জানান, মাছটি বাড়তি দামে বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠাবেন।

মাছটি পাওয়া জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাল টানতে গিয়ে দেখি অন্যান্য মাছের সাথে এই বিরল পাখি মাছটি উঠে আসে। কিন্তু চাহিদা কম থাকায় দামও একটু কম পেয়েছি।

মাছটি কিনে নেওয়া মাছ ব্যবসায়ী রাজিব বলেন, পাখি মাছগুলো সচরাচর তেমন একটা পাওয়া যায় না। এ মাছগুলো বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে দেশের নামীদামী রেস্টুরেন্টগুলোতে এ মাছের চাহিদা রয়েছে। মাছটিকে কেটে আমি ককসিট করে ঢাকাতে পাঠাব। আশা করি ভাল একটা দামে বিক্রি করতে পারব।

ইকোফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সেইল ফিশ মহাসাগরের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাণী। মাছটি ঘণ্টায় ১১০-১৩০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। নৌকার পালের মতো এর পৃষ্ঠীয় পাখনাটি দেখতে হয় বলে একে সেইল (পাল) ফিশ বলা হয়। মাছটি শিকারের কাছে এসে রং পরিবর্তন করতে পারে।

এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পাখি মাছ মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম সেইল ফিস। তবে এ অঞ্চলের জেলেরা এই মাছকে পাখি মাছ হিসেবে যানে। মাছটি খেতে খুবই সুস্বাদু। এ মাছের পুষ্টিগুণ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আরটিভি/এএএ