images

দেশজুড়ে

শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, তাপমাত্রা ১১ দশমিক ২  ডিগ্রি

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:২৫ পিএম

টানা ৭ দিন থেকে ঘন কুয়াশা আর প্রচণ্ড শীতে দুর্ভোগে পড়েছে কুড়িগ্রামের মানুষ। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর বৃষ্টির মতো ঝরেপড়া শিশির শীতের প্রকোপ বাড়িয়ে তুলছে প্রতিদিন। শীতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সপ্তাহ জুড়ে কুয়াশার কারণে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না এ জেলায়। 

প্রচণ্ড শীতে রাত ও দিন পার করছে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। দুর্ভোগে পড়েছে ঝিন্নমূল ও নদীপাড়ের মানুষ। প্রচণ্ড শীত পড়লেও প্রয়োজনমত শীতবস্ত্র পাচ্ছেন না শীতার্ত মানুষ। খড়কুটো  জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে থাকে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। এদিকে তীব্র ঠান্ডায় কাজকর্মে যেতে পারছে না খেটে খাওয়া মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা। এছাড়া ঘন কুয়াশায় বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের মছিরণ বেওয়া বলেন, প্রচণ্ড শীতে রাতে ঘুমাতে পারেন না। ভোরে খুরকুটোতে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নিয়ে শীতের হাত থেকে বাঁচতে হচ্ছে তাদের। এখন পর্যন্ত সরকারী বা বেসরকারিভাবে কেউ তাদের শীতবস্ত্র প্রদান করেননি।

একই উপজেলার কেদার ইউনিয়নের শিবেরহাটের আনোয়ার হোসেন বলেন, শীত নামলেও তাদের খোঁজ রাখে না কউ। তিনি প্রশ্ন রাখেন শীত শেষ হলে কম্বল দিবে সরকার? 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ খ ম ওয়াজিদুল কবীর রাশেদ জানান, তার ইউনিয়নের তিনভাগ মানুষ দরিদ্র। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র একশত কম্বল পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। শীতার্ত মানুষদের নিয়ে আমি  মহাবিপদে পড়েছি।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শনিবার জেলায় সকাল ৬ টায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ ভাগ। আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ জেলায় শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে ।

জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ২২ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে তার মধ্যে ১৯ হাজার বিতরণ করা হয়েছে।

আরটিভি/এএএ