images

দেশজুড়ে

প্রকল্পের নামে কেটে সাবাড় তিন হাজার গাছ

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:৩৭ এএম

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইক্ষু খামারে কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি বা পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই তিন হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বন বিভাগ থেকে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রির নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ার কোনো কিছুই অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের আওতাধীন এই সেচ প্রকল্পে ব্যাপক বৃক্ষনিধন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

স্থানীয়রা জানান, বিএডিসির ‘পানাসি’ (পাবনা–নাটোর–সিরাজগঞ্জ সেচ প্রকল্প) আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামে একটি কাজ শুরু করা হয়। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুলাডুলি খামারের ক্যানালের দুই পাশে থাকা বহু বছরের পুরনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেইনট্রি, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে চলা এ কর্মযজ্ঞে বুধবার পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে।

কার নির্দেশে গাছ কাটা হচ্ছে— এমন প্রশ্নে দায়িত্বরত শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়ে কথা বলতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। আমি কিছু জানি না। আমরা হাজিরার বিনিময়ে গাছ কাটার কাজে এসেছি। এর বেশি কিছু জানি না।

গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন দাবি করেন, কাটা গাছগুলো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের জ্বালানি হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষিতে উপকার হবে।

তবে, অযৌক্তিক ও পরিকল্পনাহীন বৃক্ষনিধন হিসেবে আখ্যায়িত করে  পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ পৃথিবী’-এর সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কোনো মন্তব্য না করে খামার প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

এ ছাড়া, মুলাডুলি ইক্ষু খামারের ব্যবস্থাপক বাকি বিল্লাহর কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসি ঈশ্বরদী জোনের সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) সুমন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আপনারা জেলা পর্যায়ের প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন। 

অন্যদিকে, বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি জানিয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা ফসিউর রহমান বলেন, দরপত্র ছাড়া কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হলো— তা জানতে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের খামার বিভাগকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরটিভি/কেএইচ