images

দেশজুড়ে

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে খুন, পুলিশ যে তথ্য দিলো

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৩১ এএম

কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ২১ দিন পর মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ডায়াবেটিস বাজার এলাকার একটি বাড়ির ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে ফাতেমা (১৪)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ফাতেমা ওই এলাকার একটি বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাসায় না ফেরায় তাকে খুঁজতে বের হন তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকেই মা ও মেয়ে দুজন নিখোঁজ ছিলেন।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর তারা বারবার পুলিশ ও ওই বাড়ির মালিকের কাছে গেলেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পরে বাড়ির মালিকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচে ও বাথরুমের ছাদ থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বহুবার ওই বাড়িতে গেলেও মালিকপক্ষ কোনো সহায়তা করেনি। এমনকি থানায় গিয়ে জিডি করতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে উল্টো তাকেই দোষারোপ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ বলেছে পারিবারিক সমস্যার কারণে হয়তো আমার স্ত্রী ও সন্তান কোথাও চলে গেছে। গত ২১ দিনে শতাধিকবার থানায় গিয়েছি, কিন্তু কোনো সুবিচার পাইনি।

তবে পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তারা নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছিল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গৃহশিক্ষিকাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রনি চৌধুরী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে নিহত ফাতেমা একটি ঘর থেকে বের হচ্ছে। তবে এরপর সে কোন দিকে গেছে, তা ফুটেজে স্পষ্ট নয়। আর রোকেয়া রহমানকে গৃহশিক্ষিকার অন্য একটি ভাড়া বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। বাকি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন
04

ঢাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত 

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে হচ্ছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপদ মনে করে যে বাড়িতে সন্তানকে পড়তে পাঠিয়েছিলেন মা, সেখানেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসী গভীর শোক ও আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরটিভি/এসকে