শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:৪৭ এএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরি করতে দেখে ফেলায় এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে পুলিশের হেফাজত থেকে চোরকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম আমেনা বেগম (৪৫)। তিনি স্থানীয় মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। অন্যদিকে পিটুনিতে নিহত যুবকের নাম মেহেদী ইসলাম (৩২)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং উপজেলার বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক দিন আগে বাবুল দেওয়ানের নবনির্মিত বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন রাজমিস্ত্রি মেহেদী ইসলাম। চার দিন আগে সেই কাজ শেষ হয়। আজ বিকেল তিনটার দিকে বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে মেহেদী সেখানে ঢুকে একটি মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করেন।
এ সময় আমেনা বেগম তাকে দেখে ফেললে মেহেদী তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। আমেনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আমেনা বেগমকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আমেনার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আটক থাকা মেহেদীর ওপর চড়াও হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু আমেনার মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে মেহেদীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ অভিযুক্তকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলেও একদল লোক তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে লাথি, ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করছেন। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল ‘সি’) মেহেদী ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে পুরোপুরি হেফাজতে নেওয়ার আগেই জনতা তার ওপর হামলা চালায়। দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়েই পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/কেএইচ