images

দেশজুড়ে / রাজনীতি / নির্বাচন

জামায়াত ধর্মের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: ব্যারিস্টার কায়সার

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৫৯ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোণা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণার দুর্গাপুরে নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ধানের শীষের এ প্রার্থী বলেন, স্বাধীনতার উত্তর আমাদের এই অবহেলিত দুর্গাপুর-কলমাকান্দার প্রত্যেকের একটা প্রাণের দাবি– আমাদের একটা সুন্দর, স্বাভাবিক, মানবিক দুর্গাপুর-কলমাকান্দা চাই। সেই মানবিক দুর্গাপুর-কলমাকান্দা গড়তে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। 

আরও পড়ুন
Kaysar_02800

জয়ী হলে কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না: কায়সার কামাল

এই চ্যালেঞ্জ শুধু মাদক নির্মূলের চ্যালেঞ্জ নয়, এই চ্যালেঞ্জ শুধু কিশোর গ্যাং নির্মূলের চ্যালেঞ্জ নয়, এই চ্যালেঞ্জ আমার প্রতিটি হিন্দু ভাইয়ের নিরাপত্তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমার প্রতিটি খ্রিষ্টান কমিউনিটির প্রত্যেকটা চার্চকে নিরাপত্তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমার হিন্দু ভাইদের মন্দির-শ্মশানঘাট নির্মাণসহ তাদের সার্বিক নিরাপত্তা উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমার মুসলমান ভাইদের ঈমান রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ।

এ সময় তিনি বলেন, আজ পত্রিকায় দেখলাম, জামায়াতে ইসলাম বলছে দাঁড়িপাল্লা বা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট না দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে না। এজন্য আমি বললাম, মুসলমান ভাইদের ঈমান রক্ষার চ্যালেঞ্জ। জান্নাত নির্ধারণ করবেন মহান রাব্বুল আলামিন। কোনো ব্যক্তি বা কোনো রাজনৈতিক দল জান্নাতে কে যাবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। তারা ধর্মের নামে প্রতারণা করছেন। 

এ সময় তিনি সবার কাছে প্রশ্ন রেখে জিজ্ঞেষ করেন, যদি ধর্মের নামে তারা প্রতারণা করেন তাহলে মুসলমান হিসেবে আমার ঈমানটা ভোটের দিন পরীক্ষা করতে হবে কি না বলেন? ১২ তারিখ নির্ধারণ করব, মহান রব বা ধর্মকে নিয়ে যারা প্রতারণা করছে, সেই প্রতারকদের ভোটের মাধ্যমে আমরা বিতাড়িত করব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় মামুনুল হককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এরকমই একটা মঞ্চ হয়েছিল গত ৫ তারিখ। একটা রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনি সেখানে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চেতনায় আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। আমি জানি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম মহানায়ক ছিলেন। অসংখ্য মামলার আসামি ছিলেন তিনি। 

রাজপথে তিনি লড়াই করেছেন। তার অনেক মামলায় আইনজীবী হিসেবে আমারও লড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের কথা তিনি এই জায়গায় যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তিনি কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষের শক্তির দোসর ছিলেন। মামুনুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং নেত্রকোণা-১ আসনে তাদের যে প্রার্থী, আমি মনে করি এর মাধ্যমে তিনি এ এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। 

তিনি বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোট তাকেই দিন, যিনি জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে আসতে পারবেন। ভোট দিন তাকেই, যিনি দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। 

আপনার ভোট তাকে দিন, যিনি সীমান্ত এলাকার মানুষের পানির কষ্ট, যাতায়াত এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যা নিরসন করতে পারবেন। আপনার ভোট তাকেই দিন, যিনি কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করবেন যে তিনি এলাকার উন্নয়ন করতে এসেছেন। তাই ১২ তারিখ সারাদিন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনারা প্রমাণ করে দিবেন যে আপনারা উন্নয়ন চান। 

আরটিভি/এমআই