শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:১৯ পিএম
জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে মৌখিক তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে। এ ঘটনায় তালাকপ্রাপ্ত গৃহবধূ বিবি জহুরার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা জহুরার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার। তারা জহুরা, তার শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, জহুরার এই দুঃসময়ে বিএনপি তার পাশে থাকবে। সংসার পুনঃস্থাপন, পরিচালনা এবং সন্তানদের ভরণপোষণে দলীয়ভাবে সহযোগিতা করা হবে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস ছাত্তার জানান, জহুরাকে প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মৌখিকভাবে স্ত্রীকে তালাক দেন। ঘটনার পর জনরোষের মুখে এলাকা ছাড়লেও শুক্রবার দুপুরে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
স্থানীয়দের চাপের মুখে কাওসার নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
জহুরা জানান, জীবনের প্রথম ভোট তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে দেন। এর জের ধরেই তাকে তালাক দেওয়া হয়। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সমাধানের মাধ্যমে স্বামীর সংসারেই থাকতে চান। বর্তমানে তিন সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন।
কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, ছেলে অন্যায় করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে কাওসারকে আর বাবার ঘরে জায়গা দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। আর্থিক সংকটে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি অনেকটা ঘরেই অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
আরটিভি/এসকে