রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:০২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ন্যূনতম এক-অষ্টমাংশ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট না পাওয়ায় ১৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
শরীয়তপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম তিনটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে জেলার অধিকাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসীমা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জালালুদ্দীন আহমদ রিকশা প্রতীকে পান ৬২ হাজার ৭১৭ ভোট।
এ আসনে ১২.৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় ৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— নূর মোহাম্মদ মিয়া (একতারা) ৬১৬ ভোট, ফিরোজ আহমেদ (ট্রাক) ৫৫১ ভোট, আব্দুর রহমান (শাপলা কলি) ৪৭৫ ভোট, মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ (হাতপাখা) ১০ হাজার ৮১৭ ভোট, গোলাম মোস্তফা (ঘোড়া) ৩৫৯ ভোট এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) ১৪ হাজার ৬৪৪ ভোট।
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুর রহমান (কিরন) ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৭০ হাজার ৮৯২ ভোট।
এ আসনে ৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— আখতারুজ্জামান সম্রাট (ট্রাক) ২৮৩ ভোট, ইমরান হোসেন (হাতপাখা) ৬ হাজার ৫০৫ ভোট, জসীমউদ্দীন (লাঙ্গল) ২ হাজার ৫৪৭ ভোট, পারভেজ মোশাররফ (কলম) ৪৪২ ভোট, মাহমুদুল হাছান (বটগাছ) ৩১৩ ভোট, আলমগীর হোসেন (কম্পিউটার) ২৪৬ ভোট এবং মো. নাসির (সোফা) ২০৬ ভোট।
শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৬৮৪ ভোট।
বাকি দুই প্রার্থী ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— হানিফ মিয়া (হাতপাখা) ৯ হাজার ৮১৪ ভোট এবং আব্দুল হান্নান (লাঙ্গল) ২ হাজার ৬৪ ভোট।
আরটিভি/এমএইচজে