বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৫৫ পিএম
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচ হাজার টাকা না পেয়ে নানিকে হাতুড়ি ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নাতির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার কালিদাশ পানাউল্লাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত বেদেনা কোচ (৬৫) উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী।
গ্রেপ্তারকৃত নাতি নয়ন কোচ (১৮) একই গ্রামের শ্যামল কোচের ছেলে। তিনি পৌরসভার জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের নাতি নয়ন কোচ মঙ্গলবার বিকেলে নানির কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর রাতে সুযোগ বুঝে নয়ন নানির বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে রাত ৯টার সময় নিহতের স্বামী বাজারে গেলে বাড়িতে একা ছিলেন বেদেনা কোচ।
রাত আনুমানিক ১১টার সময় নয়ন প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
পরে পরেশ চন্দ্র কোচ বাড়ি ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, নানি তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না।
এ ঘটনায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নয়ন কোচকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে, যা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রমাণ।
আরটিভি/এমআই