images

দেশজুড়ে

মরণাপন্ন শিশুকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২২ পিএম

মাগুরার শ্রীপুরে কীটনাশক পান করা সাত বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত কাজে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিশুটির নাম আফিয়া খাতুন (৭)। সে মাগুরা সদর উপজেলার শেখ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মাগুরা সদরের শেখপাড়া এলাকা থেকে শিশু আফিয়া একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে তার মামা বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামে যায়। মামা বাড়ির ঘরের কোণে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক রাখা ছিল। খেলার ছলে শিশুটি অসাবধানতাবশত ওই কীটনাশক হাত-পায়ে মাখে এবং খেয়ে ফেলে।

এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

এরপর শিশুটির স্বজনরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। তবে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর চালক রোগীর স্বজনদের অসুস্থ শিশুকেসহ নেমে যেতে বলেন।

রোগীর স্বজনদের ভাষ্য— কারণ জানতে চাইলে চালক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) জরুরি কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করবেন এবং রোগীকে অন্য যানবাহনে করে যেতে বলেছেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনের জন্য। অথচ টিএইচওর নির্দেশে অসুস্থ শিশুটিসহ আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আমরা ইজিবাইকে করে শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

আরও পড়ুন
Kumilla_024

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি, কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়। সে কারণে বিকল্পভাবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমার সরকারি গাড়ির দুই বছর ধরে জ্বালানি বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এম্বুলেন্স সংক্রান্ত ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ভবিষ্যতে যেন অ্যাম্বুলেন্স সাধারণ রোগীদের সেবায় সর্বদা ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, অসুস্থ শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে কোনোভাবেই নামানো উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়। কিন্তু জানা যায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সেই হাসপাতাল। ইজিবাইকে যেতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।  

আরটিভি/এমএ