বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৭:১৬ পিএম
একটি ভাঙাচোরা ছোট্ট ঘর। উদায়স্ত চলছে এ ঘরের বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার এক কঠোর সংগ্রাম। সেই ঘরের গৃহকর্তা আব্দুল হাশেম মিয়া তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। দারিদ্র্যকে সম্বল করা পরিবারটির অবস্থান ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।
জানা যায়, আব্দুল হাশেম মিয়া সাত সন্তানের জনক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার তিন সন্তান জন্মের পর থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। বড় মেয়ে জান্নাত বেগম (৩০), মেয়ে রুবিনা বেগম (১৬) এবং ছেলে আব্দুর রহমান (১৪) এই তিনজনই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। দৈনন্দিন প্রায় সব কাজেই তাদের অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
দিনমজুর আব্দুল হাশেম জানিয়েছেন, একসময় দৈনন্দিন শ্রম করে তিনি সংসারের খরচ মেটাতেন। কিন্তু বয়সের প্রভাব ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় প্রায় বন্ধের মতো হয়ে গেছে।
দুর্দিনের এই সময়ে স্ত্রী মরিয়ম বেগম স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। সীমিত সামর্থ্য নিয়েই তারা তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের দেখভাল করার চেষ্টা করছেন। তবে অল্প আয়ে যেখানে সংসারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে তিন সন্তানের চিকিৎসা ও ভরণপোষণের ব্যয় বহন করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
মরিয়ম বেগম জানান, অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থাও করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাশেম তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন। সমাজের বিত্তবান লোকজন এগিয়ে আসলে তারা কিছুটা উপকৃত হবে। এবং সরকার সাহায্য করলে পরিবারটির দুর্দশা কমবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন জানান, খোঁজ-খবর নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই তিন প্রতিবন্ধী ও অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
আরটিভি/এমআই