শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৫২ পিএম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি তেলের বাজারে দেখা দেওয়া এই অস্থিরতার ঢেউ এসে পড়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে।
বিশেষ করে মেহেরপুর জেলার ফুয়েল স্টেশনগুলোতে বাড়ছে জ্বালানি তেল নিতে আসা মানুষের ভিড়। যানবাহনের পাশাপাশি ড্রামে করে তেল নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। অযথা মজুদের কারণে তেল নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই মেহেরপুরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের বাড়তি ভিড় দেখা যায়।
বৈশ্বিক বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে আগে থেকেই জ্বালানি তেল মজুদের চেষ্টা করছেন বেশকিছু মানুষ। তেল সংকট হতে পারে—এমন হুজুগে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন তারা। রাতদিন সমানতালে তেল নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।
অবৈধ মজুদ ঠেকাতে ইতোমধ্যে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তাই ইচ্ছেমত জ্বালানি নেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বেসরকারি একটি কোম্পানীর প্রতিনিধি আলমাস হোসেন তার মোটরসাইকেলে মেহেরপুর শহরের একটি ফুয়েল স্টেশন থেকে ৩০০ টাকার অকটেন নিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার টাকার অকটেন তার মোটরসাইকেলে লাগে। এভাবে অকটেন দিলে সমস্যা আরও বাড়বে। যাদের বাইক কম চলে তাদেরকে এভাবে দিলে সমস্যা নেই।
স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে অনেক মানুষ তাদের মোটরসাইকেলে প্লাস্টিকের কন্টিনার বেঁধে নিয়ে এসেছেন। ফুয়েল স্টেশন থেকে ডিজেল নিয়ে গ্রামের দোকানে বিক্রি করে করে বলে দাবি করছেন অনেকে। তবে তাদের কেউ ব্যবসায়ী নন। অবৈধ মজুদের উদ্দেশে ডিজেল নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ উড়িয়ে দেয় পাম্প মালিকরা বলছেন, চাহিদা পূরণের মত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তাদের কাছে রয়েছে। নিয়মিত লোড আনলোড চলছে। তবে অবৈধ মজুদ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে অবৈধ মজুদদারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ডক্টর সৈয়দ এনামুল কবির। অবৈধ মজুদ হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে দায়িত্ব দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে তদারকি করা হচ্ছে।
আরটিভি/এমআই