images

দেশজুড়ে

পায়ের নিচে কোরআন রাখার অভিযোগে যুবককে বেধড়ক পিটুনি

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ০২:২৮ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে মিলন মিয়া নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজিত জনতা থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। 
 
সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের আগে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের বড়খোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়খোলা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিলন মিয়া সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রীকে তালাক দেন। সোমবার বিকেলে তিনি বড়খোলা জামে মসজিদের ইমামের কাছে গিয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

ইমাম বিষয়টি সমাধানে অপারগতা প্রকাশ করলে মিলন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে তিনি মসজিদের ভেতরে থাকা পবিত্র কোরআন শরীফ পায়ের নিচে রেখে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে শত শত মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদের সামনে জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা মিলন মিয়াকে আটক করে গণধোলাই দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে যান।

পরে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শতশত মানুষ অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় অবস্থান নেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশের আশ্বাসে রাত গভীর হলে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আরটিভি/এসকে